জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার তীব্র সমালোচনা

প্রকাশ : 19 Apr 2026
জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার তীব্র সমালোচনা

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি সরকারের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং প্রকৃত মজুত পরিস্থিতি সংসদে তুলে ধরার দাবি জানান।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। দুই দিনের বিরতির পর বিকেল সাড়ে ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আবার শুরু হয়।

বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকার বারবার দাবি করছে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন স্থানে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, যেখানে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি রাতভর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সংকট না থাকার দাবি কতটা যৌক্তিক—সেই প্রশ্ন তুলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যদি জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ থেকেই থাকে, তাহলে কেন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং কেন পাম্পগুলোতে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুত কতদিনের রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে মার্কেট আগে বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি অদূরদর্শী বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পরই কেনাকাটা করে, ফলে এই সিদ্ধান্ত ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া অফিস-আদালতের সময়সূচি পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে সংকট না থাকার যে দাবি করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। তিনি জানতে চান, তেলের মজুদদারি কারা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা তদন্ত করে প্রকাশ করা উচিত। তার বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে একপর্যায়ে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিন অধিবেশনে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, নৌ যোগাযোগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বাড়াতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অপরদিকে, শমসেরনগর বিমানবন্দর ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় আন্তর্জাতিক আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব নয় বলে সংসদকে অবহিত করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষিকে রফতানিমুখী খাতে রূপান্তর করতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপণ্য রফতানি অঞ্চলে পরিণত করার কাজ করছে সরকার।

এদিকে বিরোধীদলীয় এক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকায় সংসদ সদস্যরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সম্পর্কিত খবর

;