জামালপুরে অটোরিক্সা চালকদের ৫ দফা দাবীতে ধর্মঘট

প্রকাশ : 02 Nov 2025
জামালপুরে অটোরিক্সা চালকদের ৫ দফা দাবীতে ধর্মঘট

সুমন আদিত্য, জামালপুর প্রতিনিধিঃ অটোরিক্সা, ইজিবাইক চালকদের সকাল থেকে ধর্মঘটে জামালপুরে শহরবাসীর নাজেহাল অবস্থা। বিকেল তিনটা পর্যন্ত ডাকা ধর্মঘটে শহরে কোন অটোরিক্সা, ইজিবাইক, মিশুক, অটোভ্যান চলতে দেখা যায় নাই।


রবিবার (২ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে জামালপুর শহরে অটোরিক্সা ও ইজিবাইকের লাইসেন্স ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেন চালক ও মালিক ঐক্য পরিষদ।


সকাল ১১টার দিকে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়ক ফাঁকা। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল করছে না। যাত্রীরা হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। অনেকে আবার মালামাল মাথায় নিয়ে যাচ্ছেন। স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীরাও হেঁটে যাতায়াত করছে।


শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে গেটপাড় এলাকায় ইজিবাইকের চালক ও মালিকেরা সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। দুই একটি ইজিবাইক এলেই তাঁরা যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন।


যাত্রীরা বলেন, আমরা এখন খুব অসহায়। বেশি ভাড়া দিতে চাই কিন্তু কোন গাড়ী নাই। মাল-পত্র মাথায় নিয়েই রওনা দিয়েছি। দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে সেটা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কেন। অন্য কোনো উপায়ে দাবি-দাওয়া আদায় করা যেত না? এভাবে হঠাৎ সব বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।


অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চালকদের অভিযোগ, এই অটোরিক্সা মাধ্যমে তাঁদের পরিবার চলে। জামালপুর শহর খুব ছোট। আগের মতো এখন আয় নেই। অথচ পৌরসভা প্রতিবছর নানাভাবে চালক ও মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। প্রতিবছর লাইসেন্স ফি বাবদ পৌরসভা ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নেয়। এবার ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা করেছে। এ ছাড়া এক দিন লাল ও এক দিন সবুজ ইজিবাইক চলাচল করবে। আবার এই ইজিবাইকের রং চালক অথবা মালিককে করতে হবে। এত টাকা খরচ করা একজন চালকের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তাঁরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।


জামালপুর পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী খানম জানান, চালক এবং মালিকেরা না বুঝেই আন্দোলন করছেন। লাল ও সবুজ রং পৌরসভাই করে দেবে। আর লাইসেন্স ফি বাবদ যে ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, সেই টাকা চালকদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজনে খরচ করা হবে। তাঁরা ভুল তথ্য পেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের ডেকে সব বিষয়ে কথা বলা হবে। তারপর আশা করি এ নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। 

সম্পর্কিত খবর

;