৭৩ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। কলাগাছ ও বাঁশের অস্থায়ী মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদন!

প্রকাশ : 17 Feb 2025
৭৩ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। কলাগাছ ও বাঁশের অস্থায়ী মিনারেই শ্রদ্ধা নিবেদন!


মনিরুজ্জামান সুমন আমতলী থেকে ।। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আমতলী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী মিনার নির্মাণ করে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছেন। এতে ক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা খরচ করতে পারে কিন্তু শহীদ মিনার নির্মাণে তাদের বরাদ্দ থাকে না। দ্রুত উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন তারা।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলায় ২২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩ টি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ২৯ টি  ও ৭টি কলেজ রয়েছে। উপজেলার ১২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুইটি কলেজ ও ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। অবশিষ্ট বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। অপর দিকে উপজেলার কোন মাদ্রাসায়ই শহীদ মিনার নেই। শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছেন। এছাড়া যেগুলোতে শহীদ মিনার রয়েছে সেগুলো অযতœ আর অবহেলায় পড়ে থাকে। এগুলো সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। প্রতি বছর আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের দু’এক দিন পূর্বে আমতলী কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারসহ অন্যান্য শহীদ মিনার ঘষা মাজা করা হয়। দিবস শেষ হয়ে গেলে কেউ ওই মিনারের আর খবর রাখে না। ওই শহীদ মিনারে গড়ে ওঠে মাদক সেবনের নিরাপদ আশ্রয় বলে অভিযোগ করেন সচেতন নাগরিক আমতলী সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবুল হোসেন বিশ্বাস।  

সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গুরুদল বঙ্গবন্ধু নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, মানিকঝুঁড়ি মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কেওয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।   

শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লক্ষী রানী, জুয়াইরিয়া ও ফাহিম হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবস পালন করতে হয়।  তারা আরো বলেন, উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা খরচ করতে পারে কিন্তু শহীদ মিনার নির্মাণে তাদের বরাদ্দ থাকে না। এগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবজ্ঞা।  দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের দাবী তাদের।

কেওয়াবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নুরুজ্জামান হালিম বলেন, আর্থিক সংঙ্কটের কারনে বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার করতে পারছি না। আর্থিক সংগতি হলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।  তিনি আরো বলেন, কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শিক্ষার্থীরা আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে। 

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সফিউল আলম বলেন, উপজেলার ৬টি বিদ্যালয় ছাড়া  অবশিষ্ট বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারীভাবে উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ভাষা শহীদদের পরিচয় জানতে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা আবশ্যক। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা স্থানীয় পর্যায়ে অর্থ সংগ্রহ করে শহীদ মিনার  নির্মাণ করবেন।  

------------------------------------------------------------------------------------------

আমতলীর ব্যবসায়ী যুবকের

আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় চারজনকে জেল হাজতে প্রেরণ। 

মনিরুজ্জামান সুমন আমতলী থেকে ।।


আমতলীর ব্যবসায়ী নিয়াজ মোর্শ্বেদ তনয়ের আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার আসামী ফারিয়া জান্নাতি মীম, আতিক মঞ্জু গাজী, হাসান মেহেদী মিঠু গাজী ও প্রিন্স মিয়ার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। 

জানাগেছে, ২০১৯ সালে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলহাজ্ব নান্নু মোল্লার ছেলে নিয়াজ মোর্শ্বেদ তনয়ের সঙ্গে আরেক ব্যবসায়ী চাওড়া চলাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ফারুক গাজীর মেয়ে ফারিয়া জান্নাতি মীমের বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর স্বামী তনয় জানতে পারে তার স্ত্রী মীমের আরো একটি বিয়ে হয়েছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধ হয়। গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর স্ত্রী মীমকে স্বামী নিয়াজ তালাক দেয়। তালাক নোটিশ পেয়ে ১৭ অক্টোবর মীম তার স্বামী নিয়াজ মোর্শ্বেদ তনয়ের বিরুদ্ধে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে যৌতুক মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই পুলিশ তনয়কে গ্রেপ্তার করেন। এ মামলায় তনয় ১১ দিন জেল হাজতে ছিল। স্ত্রী ফারিয়া জান্নাতি মীম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা স্বামী তনয়কে বিভিন্ন ভাবে বুলিং ও হয়রানী করতো। এতে নিয়াম মোর্শ্বেদ তনয় মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। ফলে সে আত্মহত্যার সিধান্ত নেয়। গত বছর ২৯ নভেম্বর ভোররাতে তনয় সাবেক স্ত্রী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ীর ও তার স্বজনদের নির্যাতনের বর্ননা স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিষপান করেন। ওই বছর ৩০ নভেম্বর ঢাকা শহীদ সোহরাওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত বছর ৫ ডিসেম্বর আমতলী থানায় তনয়ের বড় বোন অ্যাডভোকেট তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে তনয়ের স্ত্রী ফারিয়া জান্নাতি মীমকে প্রধান আসামী করে ১৩ জনের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার আসমাীরা বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম তয়নের সাবেক স্ত্রী আসামী ফারিয়া জান্নাতি মীম, আতিক মঞ্জু গাজী, হাসান মেহেদী মিঠু গাজী ও প্রিন্স এ চারজনের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অপর আসামীদের জামিন দেন। 

মামলার বাদী আইনজীবি তানিয়া আক্তার বলেন, আদালতের বিচারক চারজনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এতে আমি ন্যায় বিচার পাব বলে আশা করি।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, আদালতের বিচারক চারজনের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অপর আসামীদের জামিন দেয়া হয়েছে।  


সম্পর্কিত খবর

;