রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে বোচাগঞ্জে মানববন্ধন

প্রকাশ : 28 Jul 2026
রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে বোচাগঞ্জে মানববন্ধন

আহাছানুল মতিন  নান্নু প্রতিনিধি বোচাগঞ্জ: রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ ও কৌশলগত বিক্রয়ের উদ্যোগের প্রতিবাদ এবং সেতাবগঞ্জ চিনিকল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পুনরায় চালুর দাবিতে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের উদ্যোগে চিনিকলের প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সেতাবগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক বদরুদ্দোজা বাপনের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিমন খন্দকারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র প্রতিনিধি ফয়সাল মুস্তাক, শ্রমিকদল নেতা শহিদুল ইসলাম, মইনুল ইসলাম স্বাধীন, মহিলা দল নেত্রী রাশেদা খানম, জামায়াতে ইসলামী নেতা নুর আলমসহ অনেকে।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় শিল্প কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মুনাফার বস্তু নয়। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে ওঠা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে পরে বেসরকারিকরণ বা কৌশলগত বিক্রয়ের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেবেন।


বক্তারা বলেন, সেতাবগঞ্জ চিনিকল শুধু একটি কারখানা নয়; এটি এ অঞ্চলের শ্রমিক, আখচাষি, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। চিনিকলটি বন্ধ থাকায় হাজারো পরিবার কর্মহীন হয়েছে, আখচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই শিল্প বিক্রি নয়, আধুনিকায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চিনিকলটি পুনরায় চালু করতে হবে।


বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে সেতাবগঞ্জ চিনিকল এস আলম গ্রুপের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের পাঁয়তারা করা হয়েছিল। এখন নতুন করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে রাষ্ট্রীয় এ সম্পদ হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের সম্পদ রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।


সমাবেশ থেকে আন্দোলন পরিষদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সেতাবগঞ্জ চিনিকল অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পুনরায় চালু করা; ২০২০ সালে চিনিকল বন্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা; চিনিকল বন্ধের আগে ও পরে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্তের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।


এ ছাড়া চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তি, চিনিকলের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে দায় প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


আন্দোলন পরিষদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর শিল্প মন্ত্রণালয় ও শিল্প উপদেষ্টার গৃহীত কার্যক্রম, ব্যয়, অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল পুনরায় চালুর বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।


এ বিষয়ে সদ্য সেতাবগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চিনিকল সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ এখনো পাওয়া যায়নি। আর চিনিকল বেসরকারিকরণ বা কৌশলগত বিক্রয়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’


বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার এই দাবি উপেক্ষা করা হলে সেতাবগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য রাষ্ট্রীয় শিল্পাঞ্চলে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রীয় শিল্প রক্ষার এ আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোল।


সমাবেশে সেতাবগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার শ্রমিক, আখচাষি, কৃষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

সম্পর্কিত খবর

;