আন্ডারওয়ার্ল্ড পুনর্গঠনে মরিয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

জামিনে বেরিয়ে তৎপর ৪২৬ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী

প্রকাশ : 03 Jun 2026
জামিনে বেরিয়ে তৎপর ৪২৬ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী

ডেস্ক রিপোর্ট: ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একে একে জামিন পেয়েছে শীর্ষ ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ক্ষমতা আইনে বন্দি থাকা অন্তত ৪২৬ জন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে সরকারের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আছে অন্তত ছয়জন। মুক্তি পেয়ে বেশিরভাগ সন্ত্রাসী পুরোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড পুনর্গঠনে তৎপর হয়ে উঠেছে।


জামিনে বেরিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে এমন উল্লেখযোগ্য নামের মধ্যে রয়েছে মিরপুরের ‘কিলার আব্বাস’ আব্বাস আলী, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগের সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, বাড্ডার খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু এবং তেজগাঁওয়ের শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম। এদের বেশিরভাগই এক থেকে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিল। 


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, মুক্তির পর এসব সন্ত্রাসী আত্মগোপনে থেকে ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্ক তৈরি করছে। মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক, কাফরুল, মগবাজার, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা ও হাজারীবাগ এলাকায় তারা এলাকাভিত্তিক নতুন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। পুরোনো ক্যাডার বাহিনী ও শুটার গ্রুপকে আবার সক্রিয় করা হচ্ছে। জমি দখল, চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সরাসরি সামনে না এসে বিদেশে অবস্থান করে হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যাল অ্যাপে বিদেশি নম্বর থেকে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাচ্ছে। আর স্থানীয় সহযোগীরা টাকা সংগ্রহ করছে। মিরপুর-পল্লবী এলাকায় মফিজুর রহমান মামুন, শাহাদাত হোসেন ওরফে সাধু, কিলার আব্বাস ও কিলার ইব্রাহিম বিদেশে থেকেই হুমকি দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। 


গত দুই মাসে রাজধানীতে তিনটি খুনের ঘটনার নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম এসেছে। অন্তত আটটি স্থানে হামলা, জখম, দখল ও চাঁদাবাজিতে তাদের সহযোগীদের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যুবদলের সদস্য আরিফ সিকদার হত্যার ঘটনায় মগবাজার-রামপুরা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুবাইয়ে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। 


২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এদের মধ্যে কেউ মারা গেছেন, দুই-একজন কারাগারে আছেন, বাকিরা বিদেশে অবস্থান করে দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে গত ২৫ বছরে নতুন করে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা করা হয়নি। 


পুলিশের দাবি, জামিনপ্রাপ্তদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং এলাকাভিত্তিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবু অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরোনো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং যেকোনো মূল্যে এদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 


উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সুযোগ নেয় সন্ত্রাসীরা। এরপরই একে একে জামিনে বেরিয়ে আসে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। 

সম্পর্কিত খবর

;