বাম জোট ও বাম মোর্চার যৌথ বিবৃতি

প্রকাশ : 18 May 2025
বাম জোট ও বাম মোর্চার যৌথ বিবৃতি

ডেস্ক রিপোর্ট: বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে  বলেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম  সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেছেন, "বামদের দ্বারা ইনফ্লুয়েন্সড হলে বাংলাদেশে জব হবে না,বাংলাদেশকে উনারা বনসাই বানিয়ে রাখতে চান।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, শফিকুল আলমের এই বক্তব্য একদেশদর্শী, পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষপ্রসূত। তার এই বক্তব্যের  ঐতিহাসিক কোনো ভিত্তি নাই। বরং চট্টগ্রাম বন্দর মার্কিন কোম্পানির কাছে লিজ দেয়া, দেশের গ্যাস ভারতে রপ্তানি করা, ফুলবাড়ীর অসম কয়লা চুক্তির বিরোধিতা করা,রামপালে ভারতের কোম্পানির কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করাসহ বহু দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছে বাম গণতান্ত্রিক শক্তি। এবং বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগসহ যারাই দেশের জনগণের স্বার্থ বিদেশীদের কাছে বিকিয়ে দিয়েছে,দেশের স্বাধীন অর্থনৈতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে, বিদেশী কোম্পানির কমিশনভোগী, আমরা দেখেছি তারাই বামপন্থী শক্তিকে উন্নয়নবিরোধী বলে অ্যাখ্যায়িত করেছে। 

শফিকুল আলম আরো দাবি করেছেন,বন্দরের টার্মিনাল ইজারা দেয়ার এক্তিয়ার নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের আছে। শুধু তাই না সবকিছু করার এক্তিয়ার নাকি তাদের আছে। নেতৃবৃন্দ প্রেস সচিবের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, এই সরকারের বিচার, সংস্কার, নির্বাচন আর রুটিন কাজ করার এক্তিয়ার আছে। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই কেবল সংস্কার করতে পারবেন।

অথচ বন্দর, মানবিক করিডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- যার সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা,প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের প্রশ্ন যুক্ত তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে । যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতির সাথে সাংঘর্ষিক। নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সাথে বলেন, সরকার তাহলে এসব চুক্তির মাধ্যমে কার স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে? দেশ ও দেশের জনগণের নাকি সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ? 

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা প্রেস সচিবের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে প্রেসসচিবের এসব বক্তব্য নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করছি। 

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদানকারী নেতৃবৃন্দ হলেন-বামজোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ,সিপিবির সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী) -এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানা,গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। 

ফ্যাসিবাদী বিরোধী বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণমুক্তি ইউনিয়নের সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন আহম্মদ নাসু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের আহ্বায়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী,  বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভূঁইয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সমন্বয়ক মাসুদ খান, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।


সম্পর্কিত খবর

;