মো. তৈমুর তূষার: সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্র হিলারি ক্লিনটন এন্ড ফ্রেন্ডস (১৬০ জন বিশিষ্টজন) নোবেল বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের দায়ের করা মামলার বিচার স্থগিতের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে খোলা চিঠি দিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে ইউনূসের পক্ষে বিবৃতিদাতাদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা বিশেষজ্ঞ পাঠাক। তাদের যদি এত দরদ থাকে তারা আইনজীবী পাঠাক। যাঁর বিরুদ্ধে মামলা তার সমস্ত দলিল-দস্তাবেজ তাঁরা খতিয়ে দেখুক। তারাই এসে দেখুক, এখানে কোনো অন্যায় আছে কি না!’
এরপরই গতকাল হিলারি ক্লিনটন ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলেন। তিনি ইউনূসের বিচার বন্ধ করতে 'আন্দোলনে' যোগ দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানালেন।
অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আহ্বানের পর আশা করেছিলাম বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক দলের একজন রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী হিলারি আইনি পথেই লড়াইটা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের কিছু সময় পরেই হিলারি আন্দোলনের ডাক দিলেন।
এখন প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রী যখন আইনিভাবে মামলা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আহ্বান জানালেন তখন সে সুযোগ না নিয়ে এডভোকেট হিলারি কেন আন্দোলনের ডাক দিলেন? ইউনূসকে আইনি সহায়তা না দিয়ে কেন আন্দোলনের পথ নিচ্ছেন? অ্যাডভোকেট হিলারি কি তাহলে জেনে গেছেন যে, মামলায় আইনিভাবে ইউনূসের জয়ের সম্ভাবনা নেই?
হিলারি যে দেশে রাজনীতি করেন সেখানে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের বিচার চলছে। অ্যাডভোকেট হিলারি ভালভাবেই জানেন, আইন তার নিজের পথে চলে। আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা যায় না। তিনি ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এমন পর্যায়ের একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে অন্য দেশের আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে মন্তব্য করা একেবারেই সমীচিন নয়। এরপরও হিলারি আমাদের আদালতের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিলেন। তিনি কি বন্ধু ইউনূসের প্রতি অন্ধ আবেগে তার আইনি পাঠ ভুলে গেছেন?
তবে শুধু অন্ধ আবেগ কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন। মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে হিলারির বন্ধুত্ব পুরনো। শুধু নিছক বন্ধুত্ব নয়, অর্থের সর্ম্পকও রয়েছে। ২০১৬ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুসারে হিলারি ক্লিনটনের ফাউন্ডেশনে এক থেকে তিন লাখ ডলার ডোনেশন দিয়েছিলেন ইউনূস। আর আমরা সবাই জানি, 'টাকা কথা বলে'। কয়েক বছর আগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আটকাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন হিলারি। সেটার পেছনেও অর্থ কাজ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সে যাই হোক, শেষ কথা হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'গণতান্ত্রিক' বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সে দেশের একজন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী হিসেবে হিলারির প্রতি পরামর্শ হলো- আইনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে আন্দোলনের পথ নেন। ইউনূসের মামলায় আইনের আশ্রয়ের সব দরজা খোলা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের উদ্দেশে অনেকটা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। আপনারা সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী পাঠান। একজন অ্যাডভোকেট হিসেবে আপনি নিজেও আসতে পারেন। নিজেরা কাগজপত্র দেখে মক্কেলের পক্ষে লড়ুন, তাকে নির্দোষ প্রমাণ করুন। কিন্তু কাউকে আইনের অব্যাহতি দেবার দাবিতে আন্দোলন গণতান্ত্রিক পন্থা নয়।
-লেখক: একজন সিনিয়র সাংবাদিক।
মোঃ আব্দুর রহিম (কৌশিক)রাষ্ট্র পরিচালনা কখনো কেবল দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠান, সংবিধান কিংবা আনুষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- ক্ষমতার অলিন্দে এমন কিছু অদৃশ্য বলয় প্রায় সব সময়ই সক্ ...
মানিক লাল ঘোষ:বাঙালির চেতনা ও মননে কবি নজরুল এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো। তাঁরা দুজনেই ছিলেন আপাদমস্তক স্বাধীনতাকামী, অসাম্প্রদায়িক এবং শোষণের বিরুদ্ধে আপসহ ...
মোঃ খালিদ হাসান:বাংলাদেশের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়, এটি অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাপদাহ, বায়ুদূষণ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃ ...
মোঃ মামুন হাসান:পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। আত্মত্যাগ, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের মহিমান্বিত শিক্ষাই এ উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য। হযরত ই ...
সব মন্তব্য
No Comments