মেসির হাত থেকে ফসকে ছোট্ট ইয়ামালের হাতে শিরোপা!

প্রকাশ : 20 Jul 2026
মেসির হাত থেকে ফসকে ছোট্ট ইয়ামালের হাতে শিরোপা!

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে দীর্ঘ এক মাসের লড়াই শেষে। ৪৮ দলের মহাযজ্ঞে ১০৪টি ম্যাচের পর ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজার দর্শকের সামনে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৩-২ গোলে জয় তুলে নেয় স্পেন। আর তাতেই লিওনেল মেসির হাত থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি চলে গেল ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালের হাতে।


টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল ১১ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয় জার্মানি, বেলজিয়াম ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিরা। অন্যদিকে চমক দেখিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় মরক্কো, জাপান ও প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা উজবেকিস্তান। রাউন্ড অব থার্টি টু থেকে শুরু হয় আসল লড়াই। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে ওঠে স্পেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে ইয়ামাল-উইলিয়ামসরা।


অন্যদিকে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ঘিরে আর্জেন্টিনার যাত্রাটাও ছিল নাটকীয়। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের কাছে হার দিয়ে শুরু করলেও ঘুরে দাঁড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড ও সেমিতে পর্তুগালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠে তারা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি টুর্নামেন্টে ৫ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, ২০২২ সালের মতো এবারও মেসির হাতেই উঠবে সোনালি ট্রফি।


ফাইনালের স্ক্রিপ্টও এগোচ্ছিল সেভাবেই। ২৩ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। ৪১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি নিজেই। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের রঙ বদলে দেন ইয়ামাল। ৫৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান কমান। ৭৪ মিনিটে তার ক্রস থেকেই হেডে সমতা ফেরান আলভারো মোরাতা। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন ইয়ামাল। ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে জয়সূচক গোল করেন এই বার্সা তারকা।


শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। ২০২২ সালে যে ট্রফি তিনি দেশকে এনে দিয়েছিলেন, চার বছর পর সেই ট্রফি হাতছাড়া হলো তার চোখের সামনেই। আর মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্ট করে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল। ম্যাচসেরার পাশাপাশি ৭ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটও জিতে নেন তিনি। স্পেন পেল ২০১০ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ।


ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “ফুটবল এভাবেই চলে। আজ ওরা ভালো খেলেছে। ইয়ামাল বিশেষ একজন। ওর হাতে ভবিষ্যৎ নিরাপদ।” অন্যদিকে ট্রফি হাতে ইয়ামালের প্রতিক্রিয়া, “মেসিকে দেখেই বড় হয়েছি। তার বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে বিশ্বকাপ জেতা স্বপ্নের মতো। এই ট্রফি পুরো স্পেনের।” ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই মনে রাখবে প্রজন্ম বদলের এক রাত হিসেবে, যেখানে এক মহাতারকার হাত থেকে শিরোপা উঠল নতুন রাজার হাতে।


সম্পর্কিত খবর

;