৯ শ্রমিক মৃত্যুর দায়ে মালিককে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি

প্রকাশ : 17 Aug 2026
৯ শ্রমিক মৃত্যুর দায়ে মালিককে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি


স্টাফ রিপোর্টার: ​চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় ৯ জন (এখন পর্যন্ত) শ্রমিকের মৃত্যুতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। আজ (১৭ আগস্ট) সকাল ১০:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  এর আগে গুলিস্তানে অবস্থিত জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমবেত হন। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্তের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন,  বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভুইয়া এবং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান খান।


​সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত রেসপিরেটরি মাস্ক ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে নি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কারখানায় এলএনজি পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজটি কাটার আগে গ্যাসমুক্ত করার নিয়ম থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা না করে শ্রমিকদেরকে বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে ঠেলে দিয়ে মৃত্যুর ঘটনা সংঘটিত করে। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অচেতন হয়ে পড়া শ্রমিকদের সবাই ঘটনাস্থলে মারা যাননি। তাঁদের কয়েকজনকে জাহাজ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার পরও সময়মতো হাসপাতালে পাঠানো হয়নি। জানা যায়, পলাশ জলদাস নামে একজন শ্রমিককে উদ্ধারের পরও তিনি জীবিত ছিলেন। কিন্তু তখন কারখানার ভেতরে কোনো অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক বা অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল না। সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া গেলে এত প্রাণহানি হতো না। এ প্রেক্ষিতে নেতৃনৃন্দ  জাহাজ শিল্পে এই নজিরবিহীন ঘটনায় মালিক কর্তৃপক্ষের অবহেলা জনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দায়ী করেন।

​জাহাজ ভাঙা শিল্পে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাব এবং মালিকপক্ষের চরম অবহেলার কারণেই প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের প্রাণ দিতে হচ্ছে বলে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন। সমাবেশে

৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কারখানা মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া আহত শ্রমিকদের  নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ নিহত শ্রমিক পরিবারকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

সম্পর্কিত খবর

;