সংসদ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

প্রকাশ : 04 Jul 2026
সংসদ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। শনিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকার, সংসদ ও কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন মার্কিন স্থপতি লুই কান। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।


মার্কিন অ্যাম্বাসেডর ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ‘সকল মানুষ সমান’ ঘোষণা করেছিলেন। ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই আমরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঐতিহাসিক ক্ষণে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চাই, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শান্তি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হবে।


ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ছিল অবিস্মরণীয় অবদান। আজকের সঙ্গীতায়োজন সেই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকেই বহন করছে, যা দুই দেশের মানুষের সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপ দেবে। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।


অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সংকটে মার্কিন সহায়তা এই গভীর অংশীদারিত্বেরই প্রমাণ। পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে।


চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। জাতীয় সংসদের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।


অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদীয় ককাস সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পর্কিত খবর

;