স্টাফ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কেবল গতানুগতিক নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঘরে অর্থনীতির সুফল পৌঁছে দেওয়ার বাজেট। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার ( ২ জুন ) ঢাকায় ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে আমরা একটি ভঙ্গুর ও নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক-দেড় মাসের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ। দেশের সকল সূচক যেখানে নিম্নগামী, সেখানে অর্থনীতিকে সচল করতে নলকূপে ওপর থেকে পানি ঢালার মতো আমাদেরও অর্থনীতিতে পুঁজি ও বড় বাজেটের জোগান দিতে হচ্ছে, যাতে দেশের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়।
অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটের জন্য নয়, অর্থনীতিতেও সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জিডিপি শুধু বড় শিল্পকারখানা বা শিপিং সেক্টর থেকে আসে না। গ্রামীণ নারী, কামার, কুমার, তাঁতি, শীতলপাটি কারিগর থেকে শুরু করে আমাদের থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কর্মীর আয় জিডিপির অংশ। এই ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও প্রান্তিক উৎপাদকদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও প্রণোদনা রাখা হয়েছে। বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্বে উন্নত প্রযুক্তি, ঋণ ও অ্যামাজন-ইবের মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে তাদের পণ্য বিপণনের ব্যবস্থা করা হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে পুঁজিবাজারকে ক্যাসিনোতে পরিণত করা হয়েছিল। আমরা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC) পুনর্গঠন করতে যাচ্ছি। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর ঋণের চাপ কমবে এবং বন্ড ও ক্যাপিটাল মার্কেটের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের পথ সুগম হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজার ও আইএফসি (IFC) বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্যাংকিং খাতের আন্ডার-ক্যাপিটাল ও লুটপাটের সংকট দূর করে ডেপোজিটরদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতির দিকে যাচ্ছি। লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা বিদ্যুৎ বিলের মতো সব ধরনের সরকারি অনুমোদনের জন্য একটি সিঙ্গেল ফোকাল পয়েন্ট থাকবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো দপ্তর রেসপন্স না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমিশন কার্যকর হয়ে যাবে। সরকার ব্যবসার পথে বাধা হবে না, বরং সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করবে।
মন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রজেক্টের দৈনিক অগ্রগতি ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান থাকবে এবং কোনো বিলম্ব হলে জবাবদিহি করতে হবে। এখন থেকে যেকোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ৪টি কঠোর মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে: ১. ভ্যালু ফর মানি ২. রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট ৩. জব ক্রিয়েশন ৪. এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ এর প্রেসিডেন্ট দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বিটিএমএ এর প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল। এছাড়াও ইআরএফ এর সদস্যসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার: ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের প্রতিবাদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন গ্রাহকরা। ‘ইসলামী ব্যাংক গ্র ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ সোমবার ১ জুন দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ ও ব্যাংকের পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে বি ...
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের অন্যতম শীর্ষ পরিবহন প্রতিষ্ঠান হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. কফিল উদ্দিন মারা গেছেন। রবিবার ৩১ মে ভারতের দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ ন ...
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১০ দিনে পদ্মা ও যমুনা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে পদ্মা সেতুতে ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা এবং যমুনা সেতুতে ...
সব মন্তব্য
No Comments