বিজু উৎসব শুরু: জলে ফুল ও নতুন কাপড় ভাসিয়ে হারি বিজু উদযাপন

প্রকাশ : 13 Apr 2026
বিজু উৎসব শুরু: জলে ফুল ও নতুন কাপড় ভাসিয়ে হারি বিজু উদযাপন

চট্টগ্রাম অফিস: খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু উৎসব। চৈত্র মাসের শেষ প্রান্তে আয়োজিত এই উৎসবের সূচনা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী হারি বিজুর মাধ্যমে।


সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে ত্রিপুরা নারীরা দলবদ্ধভাবে নদী ও জলাশয়ের তীরে সমবেত হন। তারা বন থেকে সংগ্রহ করা মাধবীলতা, অলকানন্দ, জবা সহ নানা ফুল এবং নিজ হাতে বোনা নতুন কাপড় দেবী গঙ্গার উদ্দেশ্যে জলে ভাসান। এই আচারটির মাধ্যমে পুরোনো বছরের দুঃখ-গ্লানি দূর করে নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।


ত্রিপুরা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে পালিত হয় হারি বিজু, যা তিনদিনব্যাপী বিজু উৎসবের প্রথম দিন। পরদিন মূল বিজু এবং শেষ দিন বিজু সংক্রান্তি উদযাপন করা হয়।


এদিকে, চাকমা সম্প্রদায়ের কাছেও একই সময়ে বিজু উৎসব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে। আজ তাদের মূল বিজুর দিন। এদিন ঘরে ঘরে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন থাকে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী “পাঁজন” বা “পাচন” তরকারি, যা কমপক্ষে ৩০ থেকে ১০০ ধরনের সবজি মিশিয়ে রান্না করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মিশ্র সবজির খাবারটি পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং ঔষধি গুণসম্পন্ন।


উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উন্মুক্ত আতিথেয়তা—এদিন কাউকে আলাদাভাবে নিমন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয় না। যে কেউ যেকোনো বাড়িতে গিয়ে অংশ নিতে পারেন উৎসবের আনন্দে। অপরিচিত অতিথিকেও সম্মানের সঙ্গে আপ্যায়ন করা হয়।


বর্তমানে পার্বত্য অঞ্চলে বিজু শুধুমাত্র পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষও এতে অংশ নিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে।


তিনদিনব্যাপী এই উৎসবের মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের আগমনকে বরণ করে নিচ্ছে পাহাড়ের মানুষ।

সম্পর্কিত খবর

;