ময়মনসিংহ অফিস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা সবুজ শ্যামল বাংলাদেশে আমাদের জন্ম নেয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের মাটি উর্বর, মানুষ আমাদের পরিশ্রমী। মাটির নিছে সম্পদ, পানিতে আমাদের সম্পদ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দুই দুইবার স্বাধীনতা। কিন্তু দীর্ঘ ৭৭ বছরে বাংলাদেশ একটি জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারলো না। আমাদের দেশের পাসপোর্টের ভ্যালু অনেক দুর্বল। দেশের পরিচয় দিতে অনেকে লজ্জাবোধ করে। যারা জনগনকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে জনগনের কপাল-কিসমত খামছে খাই, তারাই ৫৪ বছরে দেশকে আগাতে দেয়নি। এই ময়মনসিংহে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে কত বছর ধরে। এরকম একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও কৃষি বিপ্লবে কৃষিতে দেশের চেহারা পাল্টে দেয়ার কথা। আমি জানি, এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বাজেট, জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট সরবরাহ করার কথা, তা করা হয় না। তারপরেও আমি ধন্যবাদ জানাই, এ বিশ্বিবদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। অন্য কোন বিশ্বিবদ্যালয় এটির কাছাকাছিও কিছু দিতে পারেনি৷
আমরা ঘোষণা দিচ্ছি, ১৩ তারিখ থেকে যদি আপনাদের ভালোবাসা ও মায়াবি হাতের ভোটের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ১১ দলের বিজয় দান করেন, তাহলে এ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এদেশ নয়, এশিয়া নয়, বিশ্বের বুকে একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ‘উইথ আউথ বেটার এডুকেশন, দেয়ার ইজ নো বেটার নেশন’। জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা আমাদের লাগবে। সেই শিক্ষাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছে। দুইটি কারণ; শিক্ষা খাতে যা বাজেট আসে, অসৎ লোকদের হাতে তা তুলে দেয়া হত। একদিকে বাজেট অপর্যাপ্ত, আর যা বাজেট আসে , সেটি খাইয়া দাইয়া শেষ করে ফেলে।
এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে পুরো ময়মনসিংহ বিভাগে কৃষির বিপ্লব ঘটবে ইনশাল্লাহ। আমরা পুরানা ধাছের কৃষি আর চাইনা। বলবেন এত টাকা কোথায় পাবো? আমাদের টাকা আছে না! বাংলাদেশ থেকে যে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে নেওয়া হয়েছে, সেই টাকা ওদের পেটের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে নিয়ে আসা হবে। এটি বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের ৪ গুণ। ওই বাজেট আমরা ফিরিয়ে আনার জন্য জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। কোন মামু খালুকে ছাড় দিয়ে কথা বলবো না। দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করবেন, আমরা ঘুম হারাম করে দিব।
ওদের শুধু সম্পদ নয়, চোরদেরও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে ইনশাল্লাহ। এনে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আশ্চর্য, এদেশে পেঠের ক্ষুধায় মুরগি চুরি করা অনেককে পিটিয়ে মেরে ফেলে। বড় চোরদের ধরেন। তাদের ধরলে আর ছোট চোরদের পেটের ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করতে হবে না। পূর্বে ২৩ বছর, পরের ৫৪ বছর, মোট ৭৭ বছরে দেখেছি। সেই পুরানা রাজনীতি কি আপনারা আবার চান? চাই না। এদেশের যুবক-যুবতীরা চাই না, মা বোনেরা চাই না। এমনকি শিশুরাও সেই পুরানা রাজনীতি আর দেখতে চাই না।
এবারের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন নয়, জাতির কিসমত উপযুক্ত রাস্তায় দাঁড় করায়ে দেয়ার নির্বাচন। একটি হবে যুব সমাজের, মা বোনদের জন আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রথম ভোট হবে ইনশাল্লাহ। গণভোটে 'হ্যাঁ'। হ্যাঁ মানে আযাদি, 'না' মানে গোলামি। আযাদি না গোলামি?
কেউ কেউ প্রথমে না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। জনগণের উত্থাল তরঙ্গ দেখতে পেয়েছে। জনগণ পুরানা পঁচা রাজনীতি আর যায় নাস পরিবার ব্যক্তি গোষ্ঠী তান্ত্রিক রাজনীতি চাই না দলীয় সরকার দেখতে চাই না। জনগণ, জনগণের সরকার দেখতে চাই। অনেকে এখন আস্তে আস্তে বলা শুরু করেছে, আমরাও 'হ্যাঁ'। ঠেলার নাম বাবাজি। জনগনের ঠেলা, এটি ভীষণ শক্তিশালী ঠেলা। এটি সাগরের উত্তাল ঢেউকে থামিয়ে দেয়।
যাদেরকে ভোট দিলে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে, তাদের ভোট দিবেন না। যারা ৫ আগস্টের পর থেকে জনগণের মাল খামসে খাপলে খাওয়ার জন্য চতুর্দিকে চাঁদাবানিজ্য শুরু করেছে, তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা মামলা বাণিজ্য করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা দুর্নীতিবাজ-ঋণ খেলাপিদের বগলের নিচে নিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে, তাদের ভোট দিবেন?
যারা পরীক্ষিত পরিচিত প্রমাণিত, যারা ন্যায়ের পক্ষে, হকের পক্ষে, সত্যের পক্ষে মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের পক্ষে; এবার বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা তাদের পক্ষে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
তাই গণজোয়ার শুধু ময়মনসিংহের চিত্র নয়। পুরো বাংলাদেশের চিত্র একই। যুবকরা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, আমরা ধান্দাবাজি- ধাপ্পাবাজির রাজনীতির সাথে আর নাই। আমরা কোন কার্ড এবং বেকার ভাতার সাথেও নাই। নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। নতুন বাংলাদেশ হবে ২৪ এর আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ।
তারা রায় দিয়েছে। কোথায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছে আর আপাতত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। যতগুলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়েছে, প্রত্যেকটিতে জুলাই যোদ্ধারা, তরুণ তরুণীরা জানিয়ে দিয়েছে আমরা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সাথে নাই। এখনই যারা মানুষের উপর অত্যাচার করে, নির্যাতন করে, মামলা বাণিজ্য করে, সম্পদ লুন্ঠন করে, মানে ক্ষমতাই গেলে এরা কী করবে? সারা বাংলাদেশকে তারা কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলবে। মা বোনদের ইজ্জ্বতের ধার ধারবে না।
তাদের নেতারা এখনই হুংকার দিয়ে বলে, কেউ নেকাব পরে আসরে, টান মেরে খুলে ফেলবে। বলে যে, কাপড় খুলে নিবে। এরা কি মায়ের সন্তান না? এরা মায়ের ঘর থেকে জন্ম নেয়নি? এরকম আচরণ যারা করবে, তাদের মানুষ বলা যায়? এগুলোর আমি প্রতিবাদ করি, এখন আমার পিছনে লেগে গেছে। আমি তোমাদের লাগালাগির পরোয়াই করিনা। পরোয়া করি আল্লাহ তায়ালাকে, পরোয়া করি নিজের বিবেককে। তোমাদের এসব জিনিস নিয়ে জবাব দেয়ার সময়ও আমার নেই। আমরা জনগনকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখি, বাস্তবেই বা কি করেছি, সামনেই বা কি করব এটা বলারই সময় পাই নাই। তোমাদের এইসব নোংরা জিনিস এ পড়ে থাকার সময় আমাদের নাই।
কেউ কেউ বের হয়েছেন কার্ড নিয়ে, এটার নাম ফ্যামিলি কার্ড৷ আমাদের সরল মনা কৃষকদের ধোকা দিয়ে আরেকটি কার্ডের কথা বলছেন ফারমার্স কার্ড। যারা ফারমার্স কার্ডের কথা বলছেন, তাদরেই কোন এক শাসন আমলে কৃষকরা ন্যায্য দামে সার চেয়েছিল।তারা সার পায় নায়। গুলি পেয়েছিল। জনগণ সবাইকে চিনে। এই পোড় খাওয়া জনগণকে কেউ যাতে বেকুব এবং বোকা না ভাবে। আজকে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইনসাফির পক্ষে আছেন। আমরা তাদের কাছে ঋণী।
শুধু পর্দানশীল মায়েরা না, যত মা বাংলাদেশে আছেন, তাদের সবার একই আওয়াজ। আমরা ১১ দল বিশেষ করে জামাতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে আমরা নিরাপদে থাকবো। এখন একদল আছেরে ভাই- সেই মাথা গরম হয়ে গেছে। চৈত্র মাস আসলে কি যে হবে তাদের; আল্লাহই ভাল জানেন। আমরা অনুরোধ করি, মাথা গরম করবেন না। আমার মায়ের ইজ্জতে হাত দিতে দিবো না ভুলে গেছেন? জুলাইয়ের ১৫ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল। সারা বাংলাদেশে সেই রাতে আগুন জ্বলে উঠেছিল। এই মায়ের সন্তানরা ঘুমিয়ে যায়নি। সাবধান! সাবধান! জীবন দিব, মায়ের সম্মানে টান দিতে দিবো না আমরা ইনশাআল্লাহ। মায়েরা ঘর থেকে বের হলে কারও বুক আর ধুরু করে কাঁপবে না। সম্মান নিয়ে ঘরে ফিরবে কিনা। এরা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী হতে পারেন। আসমানের ছাদের নিচে একই সাথে বসবাস করি। সবাইকে আমরা মায়ের মর্যাদায় দেখব ইনশাআল্লাহ। ধর্মের কোন ব্যবধান আমরা টানবো না। রাষ্ট্র গঠনে উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য নারী পুরুষ সবাই যোগ্যতা অনুযায়ী সমান সুযোগ পাবেন। প্রত্যেকটা বিভাগীয় শহরকে আমরা স্মার্ট নগরীতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ। একটা স্মার্ট নগরীতে থাকবে উন্নত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য সেবা, পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব একটা নগরী। এই নগরীতে নতুন জালেম সেজে কেউ চাঁদাবাজি করলে ওই হাত অটোমেটিক্যালি অবস হয়ে যাবে। কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। যারা চাট্টা বাট্টা করেন, ছেড়ে দেন। এটা ভিক্ষার চেয়ে নিকৃষ্ট। হ্যাঁ, আপনার পেটে যদি ক্ষুধা থাকে, তাহলে ভিক্ষা করে খেত পারেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের যে রিজিক দিযেছেন, সেখান থেকে ভাগ করে আপনাদের সাথে নিয়ে খাবো। তবুও ওই কাজটা ছেড়ে দেন। মানুষকে কষ্ট দিয়েন না।
সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা আছেন। সরকারি বেতন কাঠামোই তাদের অপরাধের দিকে ধাবিত করে। এখানে পুলিশ, বিজিবি র্যাবের লোকেরা আ়ছে। আর্মি ও বিজিবিতে যখন তারা যোগদান করেন, তখন দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি রক্ষায় জীবন দেয়ার শপথ নিয়ে তারা যোগদান করেন। তাদের বেতন আর অন্যদের বেতন সমান হতে পারে না। পুলিশে যারা চাকরি করেন, দিন নেই রাত নেই, ২৪ ঘন্টা ডিউটি। যেকোন সময় ডাক পড়তে পারে। অল টাইম ইমার্জেন্সি।
যে নিয়মিত ৮ ঘন্টা ডিউটি করে, আর যারা ২৪ ঘন্টা ডিউটি করে, তারা সমান হতে পারে? সবাইকে সমান দেয়া ইনসাফ নয়। প্রত্যেককে তার ন্যায্য পাওনা দিয়ে সম্মানের সাথে আত্ম মর্যাদা নিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে দেয়ায় হল ইনসাফ। এরপরও যদি কেউ অপরাধ করে, আপনার অধিকার আছে তাকে শাস্তির আওতায় আনার। কিন্তু জীবন মান নিশ্চিত না করে তাকে শাস্তির আওতায় আনার অধিকার নেই আপনার। আমরা যে যে পেশায় আছেন, সেভাবে সমন্বয় করবো ইনশাআল্লাহ।
আমি গতকাল একটা বক্তব্য রেখেছিলাম, বাংলাদেশের যুদ্ধটা কীভাবে সেনাবাহিনী দিয়ে শুরু হয়েছিল! আমি বললাম কি, তারা ইচ্ছা করে লিখলো কী! আশ্চর্য ব্যাপার। আমি জানি, আমাকে নিয়ে তারা মজা পায়।
প্রতিবাদ দেয়া হয়েছে, ছোট্ট করে ছাপবে। ততক্ষণে চরিত্রহননের কাজ শেষ। মিডিয়া জাতির দর্পন। কিন্তু সব মিডিয়া এসব করে না। দুএকটি মিডিয়া এসব করে। আমার কোন কথা প্রচার করলে, হুবহু আমি যেভাবে বলেছি সেভাবে প্রচার করতে হবে।
প্রিয় ময়মনসিংহবাসী প্রথম ভোটটি 'হ্যাঁ' এর পক্ষে দিবেন। পরের ভোটটি কোথাও দিবেন? শুধু দাঁড়িপাল্লায় দিলে হবে না। ঐক্যবদ্ধ ১১ দলের প্রতীক যেখানে রয়েছে, সেখানেই দিতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: হামে শিশুমৃত্যু রোধে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র উদ্যোগে আজ ১৪ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার ...
স্টাফ রিপোর্টার: স্থানীয় সরকার বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধবভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতি ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশব্যাপী অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও জননিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে এক প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ রাজধানীর বিজয়ন ...
স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থা ...
সব মন্তব্য
No Comments