ফরিদপুরে মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণের চেষ্টা:ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ : 14 May 2026
ফরিদপুরে মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণের চেষ্টা:ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে ধর্ষণের চেষ্টা করার ঘটনায় স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন (৫৯)-কে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।


মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।


ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিশু, যে একটি কওমি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র, ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাড়িতে আসে। পরদিন সকালে সে পাশের দোকানে গেলে কৌশলে তাকে মসজিদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার ওপর নির্যাতনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।


শিশুটি চিৎকার করলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।পরবর্তীতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন। তার মতে, এই ধরনের অপরাধ সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


রায় ঘোষণার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সমাজকে নাড়া দেয়। দ্রুত বিচার হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট, তবে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সেটাই আশা করি।”


অন্য জন অভিভাবক বলেন, “শিশুরা নিরাপদ না থাকলে সমাজ নিরাপদ নয়। তাই এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।” স্থানীয় কয়েকজন আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার শাস্তি কঠোর হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।


এই রায়কে স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সমাজের সর্বস্তরে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত খবর

;