ঈদ এলে বাড়ে কাজ, সারা বছর টানাপোড়েন

বাপের পেশা ধরে কামারশিল্পে সফিকুল ইসলামের ৪০ বছর

প্রকাশ : 24 May 2026
বাপের পেশা ধরে কামারশিল্পে সফিকুল ইসলামের ৪০ বছর

আহাছানুল মতিন  নান্নু (দিনাজপুর) বোচাগঞ্জ: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ভরলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম (৬৫) প্রায় চার দশক ধরে কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত। উত্তপ্ত লোহা পিটিয়ে দা, বটি, ও ছুরি তৈরি করেই চলছে তার জীবিকা।


সরেজমিনে দেখা যায়, সেতাবগঞ্জ বাজারের একটি ছোট কামারশালায় আগুনের তাপে লোহা গলিয়ে হাতুড়ির আঘাতে প্রয়োজনীয় মাংস কাটার সরঞ্জাম তৈরি করছেন তিনি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ কিছুটা বাড়লেও বছরের বাকি সময় তেমন কাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।


সফিকুল ইসলাম জানান, এটি তাদের পারিবারিক পেশা। বাবার কাছ থেকেই তিনি এই কাজ শিখেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকে থাকলেও বর্তমানে তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, “সারা বছর কাজ কম থাকে। ঈদ আসলে কিছুটা কাজ পাই, তখন একটু আয় হয়। এটা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চলে।”


সেতাবগঞ্জ বাজারের আসা ক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, “ঈদের সময় এসব সরঞ্জাম কিনতে হয়। তবে এবার দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি।”


ঈদ মৌসুমে চাহিদা বাড়লেও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা চাপে রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় দোকানদাররা।”


বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ হাসান বলেন, “কামারশিল্প আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা দীর্ঘদিন ধরে সমাজে অবদান রেখে আসছেন। তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে রয়েছে।সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিলে গ্রামীণ এই ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প ভবিষ্যতে হারিয়ে যেতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

;