ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদিতে সেনা, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাল পাকিস্তান

প্রকাশ : 19 May 2026
ইরান যুদ্ধের মধ্যে সৌদিতে সেনা, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তান প্রায় ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান এবং চীনের তৈরি HQ-9 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুইজন সরকারি সূত্রের বরাতে রয়টার্স প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে।


পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার গোপন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এই মোতায়েন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে বলা আছে, যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্যটি তাকে প্রতিরক্ষা দেবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই চুক্তি সৌদি আরবকে পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক ছাতার’ আওতায় নিয়ে আসে।


সূত্রগুলো জানায়, এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তান প্রায় ১৬টি বিমানের একটি পূর্ণ স্কোয়াড্রন সৌদি আরবে পাঠায়। এর বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি JF-17 যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি দুই স্কোয়াড্রন ড্রোন ও চীনা HQ-9 দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে। সব সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনারা পরিচালনা করছেন এবং এর অর্থায়ন করছে সৌদি আরব।


মোতায়েনকৃত ৮ হাজার সেনার বাইরে প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসলামাবাদ। সরকারি একটি সূত্র জানায়, গোপন চুক্তিতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সুযোগ রাখা হয়েছে। দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, ইরান সংঘাতের সময় মোতায়েন হওয়া সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা মূলত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ভূমিকায় থাকবেন। তবে তিনজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এর আগে থেকেই সৌদিতে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা যুদ্ধ ভূমিকায় মোতায়েন ছিল। এবারের মোতায়েন ‘শুধু প্রতীকী নয়, বরং যুদ্ধসক্ষম’ বলে উল্লেখ করেছেন তারা।


ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানা এবং এক সৌদি নাগরিকের মৃত্যুর পর রিয়াদ পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় পাকিস্তান বিমান পাঠায়। এরপর ইসলামাবাদই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। ৮ এপ্রিল ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি হয় তা এখনও কার্যকর আছে।


সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১২ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয় বলছে, এর উদ্দেশ্য ‘যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সমর্থন’। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিস এই মোতায়েন নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বড় মাত্রার মোতায়েন পাকিস্তান-সৌদি কৌশলগত সম্পর্কে ‘মাইলফলক’ এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা কয়েক দশকের পুরনো হলেও যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ও হাজার হাজার সেনা একসঙ্গে পাঠানোর ঘটনা এই প্রথম।

সম্পর্কিত খবর

;