স্টাফ রিপোর্টার: কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে বোরো মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, ডিজেল-বিদ্যুৎ, সেচসহ কৃষি উপকরণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে কৃষকদের কাছ থেকে অনেক বেশি দামে বিক্রি করছে ডিলার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। ভেজাল বীজ, সার, কীটনাশকেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। অপরদিকে চাষী কষ্টে উৎপাদিত সব্জিসহ ফসলের দাম না পেয়ে পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ, জীবন ধারণের মতো মজুরি ও খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই। কৃষি ঋণ, সার্টিফিকেট মামলা, এনজিও ঋণের কিস্তি, মহাজনী ঋণের সুদের কারবার কৃষক-ক্ষেতমজুরদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। কৃষক-ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য দাবিতে আগামীতে দেশব্যাপী লড়াই সংগ্রাম জোরদারের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
আজ ২৯ জানুয়ারি বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এস এম এ সবুর, জাতীয় কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের নিখিল দাস, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা রাজু আহমেদ। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাতীয় কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল কবির জাহিদ, কৃষিক সমিতির সহ সভাপতি নিমাই গাঙ্গুলী, ক্ষেতমজুর সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন অতিষ্ট। কৃষকের ফসল সংরক্ষণের জন্য নেই পর্যাপ্ত শস্য গুদাম ও হিমাগার। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র না থাকায় কৃষক লাভজনক দাম না পেয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। ফলে লাভবান হচ্ছে চাতাল মালিক, মধ্যসত্বভোগী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভূমি অফিস, তহসিল অফিস, সেটেলমেন্ট,পল্লী বিদ্যুৎ, সাব রেজিঃ অফিস, কৃষি ব্যাংক এবং ভিজিএফ, ভিজিডিসহ গ্রামীণ প্রকল্পসমূহে দুর্নীতি,দলীয়করণ,অনিয়ম, লুটপাট, হয়রানি গ্রামীণ মানুষের জীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো, বর্ধিত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার, এনজিও এবং মহাজনী সুদী কারবার আইন করে নিষিদ্ধ করার দাবি করেন। সমাবেশে স্বল্প সুদে সহজ শর্তে কৃষক-ক্ষেতমজুরদের জন্য ব্যাংক ঋণ চালুর দাবি করা হয়। নেতৃবৃন্দ ক্ষেতজুরহ গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই উল্লেখ করে বলেন, অপ্রতুল কৃষি ভর্তুকি, গ্রামীণ বরাদ্দ লুট করে নিয়ে যায় টাউট চেয়ারম্যান-মেম্বার, সরকারি দলের মাস্তান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বিগত জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এ গণঅভ্যুথান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কৃষক-ক্ষেতমজুর-গ্রামীন শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী তাদের অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হবে বলে আশা করেছিল। কিন্তু গ্রামীন জনগোষ্ঠীর অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয় নাই। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি ‘সংস্কার কমিশন’ গঠন করলেও একক খাত হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে বেশি ভূমিকা রাখা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ‘কৃষি সংস্কার কমিশন’ গঠন করেনি। সমাবেশ চলাকালে একটি প্রতিনিধি দল কৃষি উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন।
উপরোক্ত দাবিতে আজ ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ ‘কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদ’ এর উদ্যোগে সারাদেশে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কৃষি উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, নতুন বছরের এই শ ...
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের দৈনিক ভোরের ডাকের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এতে সরকার-টু-সরকার এবং দল-টু- ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ রাজধানীর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এবি মিলনায়তনে জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) বিশেষ সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণভোটের রায়কে বাতিল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ক ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না। সংসদে কারো জমিদারি মানবো না, কারো কাছে সংসদ বন্ধকও দ ...
সব মন্তব্য
No Comments