সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ফ্রেন্ডস ড্রামেট্রিক ক্লাবের এক ভাড়াটিয়া আল-বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এনসিপি নেতা কামরুজ্জামান বলু এর কাছে ঘরভাড়া বকেয়া আছে সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও নিচ তলার ৪টি দোকানের বকেয়া আছে প্রায় আড়াই লড়্গ টাকা। সবমিলিয়ে গত এক বছরের অধিক সময়ে এনসিপি সাতড়্গীরা জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর বিরম্নদ্ধে ঘরভাড়ার প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, জেলার সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনের একটি প্রাচীন নাম ফ্রেন্ডস ড্রামেটিক ক্লাব। নাট্যচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ক্লাবটি। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই ক্লাব নাটক মঞ্চস্ত’ করে থাকে। তবে ক্লাবের আর্থিক দুরাবস্থার জন্য নাট্যচর্চা বাঁধাগ্রস্ত হতে থাকে। তাই, ক্লাবের তৎকালীন কমিটির নেতৃবৃন্দ পুরনো ভবন ভেঙ্গে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সে মতে একটি নতুন ভবনও নির্মাণ করা হয়। ঐ ভবনের একটি ফ্লোর ক্লাব নিজস্বভাবে ব্যবহার করে থাকে। বাকি প্রত্যেকটি তলার ফ্লোরগুলো ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আরও জানা গেছে, কয়েক বছর পূর্বে ফ্রেন্ডস ড্রামেটিক ক্লাবের ফান্ড শক্তিশালী করতে নির্মাণকৃত নতুন ভবনের প্রত্যেক তলার দোকান ঘরগুলো ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সে প্রেক্ষিতে ২য় তলা ও ৩য় তলার দোকান ঘরগুলোর পাশাপাশি নিচ তলার ৪টি দোকান ঘরভাড়া নেয় আল বারাকা গ্রুপ। উক্ত বিষয়াদি নিয়ে প্রত্যেক মাসে ২য় তলার ভাড়া বাবদ ৫০ হাজার টাকা ও ৩য় তলার ভাড়া বাবদ ৩৮ হাজার টাকা এবং নিচ তলার ৪ দোকান ঘরের ভাড়া বাবদ প্রায় ২৫ হাজার সহ মোট ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণপূর্বক ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে একটি চুক্তিপত্র করে কামরুজ্জামান বুলু বলে চাউর হয়েছে। ঐ পত্রে উল্লেখ ছিলো, পরপর ৩ মাস দোকান ঘরগুলোর ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে চুক্তিপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে ৫ আগস্ট ২০২৪ ‘উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি পর থেকে ভাড়া পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। সে প্রেড়্গেিত ক্লাব কর্তৃপড়্গ ঐ এনসিপি নেতার কাছে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা বকেয়া পাবে।
তৎকালীন আলোচিত সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিনকে সভাপতি ও ছাইফুল করিম সাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে ক্লাবের একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। ঐ কমিটির প্রতিনিধিদের কাছে বা ক্লাবের নামীয় ব্যাংক একাউন্টে দোকান ভাড়ার টাকা জমা দিতো ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা। সেই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন একটি এ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। এরপর থেকে ঐ ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা ভাড়ার টাকা প্রত্যেক মাসে মাসে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে কাছে বা ক্লাবের নামীয় ব্যাংক একাউন্টে জমা না করে চুক্তিপত্র ভঙ্গ করেছে।
এই নিয়ে অবশ্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন ক্লাবের এ্যাডহক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, আমাদের কাছে ক্লাবের কোনো নথি ও হিসাবপত্র নেই। বিগত কমিটির নেতৃবৃন্দদের কাছে আমরা চেয়েছিলাম। তবে অনেকে জেলে থাকায় দিতে পারেনি। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভাড়ার টাকা বাবদ আল বারাকা গ্রম্নপের কাছে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা পাবে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানিনা। অবশ্যই জেনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
এ ব্যাপারে ক্লাবের ভাড়াটিয়া আল বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান কামরম্নজ্জামান বুলু কোনও মšত্মব্য করেননি। তবে ভাড়া বকেয়া থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি এনসিপি এর সভাপতি। তাই, শুধু আমার কাছে না ক্লাবের অন্যান্য ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের কাছেও ভাড়া বকেয়া আছে। আমার বরাদ্দ নেওয়া ২য় ও ৩য় তলায় নিজ খরচে কিছু কাজ করিয়েছি। আমার সাথে ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যেক মাসের জন্য ২য় তলার ভাড়া বাবদ ৫০ হাজার টাকা ও ৩য় তলার ভাড়া বাবদ ৩৮ হাজার টাকা এবং নিচ তলার ৪ দোকান ঘরের ভাড়া বাবদ প্রায় ২৫ হাজার সহ মোট ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা। তবে ‘৫ আগস্ট ২০২৪’ এর পূর্বে প্রত্যেক মাসে ৬৮ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতাম। বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছেও টাকা জমা দিয়েছি। তিনি সেই টাকা গ্রহণ করেনি বলে অস্বীকারও করেছেন। সেপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। এরপর থেকে আর টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ৩ মাস ভাড়ার টাকা না দিলে চুক্তিপত্র ভঙ্গ হবে ঠিক। প্রথম থেকেই তো চুক্তিমাফিক টাকা পরিশোধ করে আসছিলাম। তবে এখন টাকা কার কাছে দেবো? এখন তো ক্লাবে কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। ‘৫ আগস্ট ২০২৪’ এর পর ডিসির নেতৃত্বে একটি এ্যাডহক কমিটি হয়েছে। ঐ কমিটি ভাড়ার টাকার বিষয়ে আমাদের কিছু বলেনি। এমনকি কোনো নোটিশও করেনি। ভাড়ার টাকা শুধু আমি না অন্যান্য ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরাও পরিশোধ করেনি। টাকা আমাদের কাছে আছে গচ্ছিত আছে। নির্বাচিত কমিটি যখন বলবে তখন পরিশোধ করবো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লাবের একাধিক সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভাড়া বকেয়া থাকার খবর শহরজুড়ে আলোচনা সমালোচনার সৃৃষ্টি হলেও এ্যাডহক কমিটির নেতৃবৃন্দ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এই ভাড়ার টাকা ক্লাবের উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যয় হতো। গত ১ বছরে ক্লাবের আয়োজনে দৃশ্যমান কোনো কর্মকান্ড পরিচালিত হয়নি। তাই, এই সংকট কাটাতে আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসক উদ্যোগী হবেন বলে প্রত্যাশা করেন তারা।
বিজয় রায় রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠেছে চন্দনা রাণীর "মহলবাড়ি বেদ ও গীতা পাঠশালা”। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ...
সৈয়দ রাসেল আহমদ,সিলেট অফিস: সরাকারি নির্দেশনা অমান্য করে সন্ধ্যা ৭টার পরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অভিযোগে নগর থেকে ৩১ ব্যবসায়ীকে আটক করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।
গতকাল শ ...
মো. শাহজাহান কবির প্রধান, পঞ্চগড়: উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের কৃতি সন্তান ও বর্ষীয়ান সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দুটি কিডনি সম্পূর্ণভাবে বিকল হয় ...
বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের ওপর সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবুর হামলার ঘটনায় পুলিশি অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ ...
সব মন্তব্য
No Comments