পাম্প মালিকদের কারসাজিতে বাড়ছে জ্বালানি তেল সংকট

প্রকাশ : 22 Apr 2026
পাম্প মালিকদের কারসাজিতে বাড়ছে জ্বালানি তেল সংকট

সফিকুল ইসলাম: বাংলাদেশে পাম্প মালিকদের একাংশের সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের (প্রেট্টোল-অকটেন) তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকরা বলছেন, পাম্প মালিকরা অবৈধভাবে তেল মজুত করে বাজারে ঘাটতি তৈরি করছেন। এ কারণেই তেল নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। আর চালকেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার কারণেই এমন সংকট বলে দাবি করছেন পাম্প মালিকরা। তবে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করছেন গ্রাহক ও পাম্প মালিকরা। আবার কেউ কেউ বলছেন, জ¦ালানি তেলের সংকটের সুযোগে মিটার টেম্পারিং করে তেল কম দেয়া হচ্ছে অনেক পাম্পে। এককথায় বলতে গেলে পাম্প মালিকদের কারসাজিতে বাড়ছে জ¦ালানি সংকট।

জানা গেছে,বাংলাদেশে তেলের পাচার, কালোবাজারি ও মজুতদারির অভিযোগ জোরেশোরে ওঠার প্রেক্ষাপটে সরকার পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে জেলা ও পুলিশ সুপারদের মনিটর করার নির্দেশনা এবং মজুত ঠেকাতে ৯টি জেলায় তেলের ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও তেল পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো বেশি করে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। প্রশ্ন উঠছে, কতিপয় অসাধু পাম্প মলিকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা একটি চক্র বেশি দামে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে অনেককে জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও থামানো যাচ্ছে এই চোর সিন্ডিকেটকে।

রাজধানীর রমনা পেট্টোল পাম্প ও ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, দিন-রাত অবিরাম পাম্পের সামনে অপেক্ষমান গাড়ি ও মোটর বাইকের দীর্ঘ সারি। তেল আছে পাম্পে, তবে তা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘন্টা। তেল নিতে আসা গ্রাহকদের প্রশ্ন, সরকার পর্যাপ্ত তেলের মজুতের কথা জানালেও কেন দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে তেল নিতে হচ্ছে। রমজান নামে এক গ্রাহক বলেন, মন্ত্রীরা বাসায় বইসা কী বলে? তেলের অভাব নাই! কিন্তু (মন্ত্রীরা) কোথাও যায়? আমি ৮টা পাম্পে আইসা এই যে এখন ৩টায় সিরিয়াল পাইছি। তিনি বলেন, আমার সামনে দিয়ে পাম্প মালিকের ভাতিজাসহ আত্মীয়-স্বজন পরিচয় দিয়ে ৭ জন সিরিয়াল ছাড়াই টাঙ্কিভর্তি তেল নিয়ে গেল। আরেক গ্রাহক বলেন, আমার মনে হয় যে, তারা (পাম্প মালিকরা) কোনো একটা সিন্ডিকেট করার জন্য সব পাম্প বন্ধ রাখছে। যারা খোলা রাখছে, তাদের ওপরে এসে এই যে লোডটা পড়তেছে। দেখা যায় যে, অনেকের তো নেসেসিটি থাকে যে, হ্যাঁ, তেল তো লাগবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের গেইটের সামনে সিরিয়াল দেয়া সোহাগ মিয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, সকাল ৮টা থেকে আসছি ভাই। সারা রাত ঘুমানো হয় নাই, তেল পাইলাম না। আরেক গ্রাহক বলেন, টাঙ্কি (ফুয়েল ট্যাঙ্ক) যার ফুল আছে, সে-ও এসে এখানে গ্যাদারিং করতেছে। ধরেন, এক লিটার তেলের জন্য দাঁড়ায়ে থাকতেছে দুই-এক ঘণ্টা ধরে। এগুলার কারণেই মূলত লেইটটা হচ্ছে-আমার কাছে যেটা মনে হয়। আরেক গ্রাহক বলেন, রমনা পেট্টোল পাম্পে মিটার টেম্পারিং করে তেল চুরি করতেছে, এমনটি অনেকেই বলাবলি করছে। তবে কেউ প্রতিবাদ করছে না। তবে জ্বালানি তেল সংকটে মিটার টেম্পারিং করে তেল কম দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রমনা পেট্টোলপাম্প মালিক মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, আমরা শতভাগ সততার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি। আমার পাম্পে দুইনাম্বারি করার সুযোগ নাই। ইতিমধ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সদস্যদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রমনা পেট্টোল পাম্পের সাথে একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী সদস্যরা একটি স্লিপ নিয়ে গেলেই তেল দেয়ার কথা। কিন্তু কর্মচারি ও পাম্প মালিক ইচ্ছে করে অনেক সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও সাংবাদিক মীর আফরোজ জামান এই পাম্প নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যার্টাস দেন। এরআগে তার বিরুদ্ধে তেল চুরিসহ নানা অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় অপরাধ করেও রক্ষা পান মোহাম্মদ নাজমুল হক। ২০২২ সালের ৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের জবাব দিতে তলব করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ওই বৈঠক শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বললেন, অপরাধ করে কেও পাবে না!  জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির দিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট রাজধানীর রমনা পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। যেখানে প্রমাণ পেলে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আভাস পেয়ে, ৫ আগস্ট বেলা ৬টায় বিনা নোটিসে পাম্প বন্ধ করে দেয় রমনা পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। 

অধিদপ্তরের অভিযানে দেখা যায়, ৫ আগস্ট রমনা পেট্রোল পাম্পটি বন্ধ করা হয় তখনও এই পাম্পে মজুদ ছিলো ২৭ হাজার ৬২৩ লিটার অকটেন এবং ৩ হাজার ৮৬৪ লিটার ডিজেল। লিটারে ৪৬ টাকা অকটেনে এবং ডিজেলে ৩৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায়, এক দিনেই রমনা পেট্রোল পাম্পের মুনাফার পরিমাণ ১৪ লাখ ২ হাজার ৩৪ টাকা। শুধু এই অবৈধ মুনাফাই নয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অধিদপ্তরের অভিযানে কোন লাইসেন্সই দেখাতে পারেনি রমনা পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ। মিটার টেম্পারিং করে যারা গ্রাহককে তেল কম দিয়ে ঠকাচ্ছে সে সব পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানালেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। যদিও জ্বালানি তেলের মজুত না করার জন্য মানুষকে সতর্ক করার কথা বলছে সরকার।

জানা গেছে,ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ না কমলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের যে তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে তার জন্য মজুতদারিকেই বেশি সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলছেন, পেট্রোল পাম্পে তেল মজুতের কোনো সুযোগ নেই এবং তারা মনে করেন সরকার চাইলে সেটি সহজে যাচাই করতে পারে। সবমিলিয়ে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা না থাকলেও যুদ্ধের প্রভাবে কিছু মানুষের ‘প্যানিক বায়িং’ আর দাম বাড়বে এই চিন্তা করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারির প্রবণতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। এরআগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তেলের অবৈধ মজুত রোধে যারা সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। আর বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ নিজেই বলেছেন, কলোবাজারিরা তেলের মজুদ তৈরি করে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তার বক্তব্যের পরই চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০টি ড্রামে প্রায় ছয় হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুদকৃত ডিজেল উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে খোলা বাজারে অকটেন, ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুরা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ইমন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, তাদের জরিমানা করা হয়। অভিযানে রিফাত অটো পার্টসের মালিক শাজাহানকে ৩ হাজার টাকা, ইনসাফ অটো পার্টসের মালিক হাবিবুরকে ৭ হাজার টাকা এবং খাজা গরিবে নেওয়াজ প্রতিষ্ঠানের মোতালিবকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোস্তাফিজুর রহমান ইমন বলেন, অনুমোদন ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করা ঝুঁকিপূর্ণ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

বাড়তি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি, মানিকগঞ্জে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে পেট্রল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির দায়ে মানিকগঞ্জে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট পৌনে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো-হিজুলী বাজারের মেসার্স রিসাদ এন্টারপ্রাইজ, যাকে ২৫ হাজার টাকা এবং রাজিবপুর বাজারের মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হিজুলী ও রাজিবপুর এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। হিজুলীতে মেসার্স রিসাদ এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ৭০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। পরে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। অভিযানের খবর পেয়ে মজুত পেট্রল ভরা ড্রাম ভুট্টার বস্তায় ভরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। অবৈধভাবে তেল মজুতের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে রাজিবপুর বাজারে মেসার্স মিলন এন্টারপ্রাইজ সাধারণ কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি করছিল। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে বিষয়টির প্রমাণ মেলে। পরে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ডেমরায় পাম্প থেকে ড্রামে করে তেল যাচ্ছে খোলা বাজারে: রাজধানীর ডেমরায় পাম্প থেকে জ্বালানি তেল যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকার খোলা বাজারে। অথচ তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা তপ্তরোদে লাইনে দাঁড়িয়ে পুড়ছেন গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকরা। অনেকেই ৫-৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছেন না তেল। তবে সরেজমিনে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, এক প্রকার প্রকাশ্যেই ড্রামে ও বোতলে তেল বিক্রি করছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে স্টাফ কোয়ার্টারে অবস্থিত সিকদার ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়,  পিকআপে করে আসা কয়েকটি ড্রামে তেল দিচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তার অকপটে বলছেন, এখান থেকে তেল নিয়ে আমরা খোলা বাজারে বিক্রি করি। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ডেলিভারি দেই। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সীর মালিকানাধীন এই পাম্প থেকে দিনরাত অবাধে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় খোলা বাজারে তেল বিক্রি করেন আব্দুর রহমান। তিনি জানান, জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সীর মালিকানাধীন জ্বালানি তেলের পাম্প রয়েছে বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে গাউছিয়া এলাকায় মুন্সী ফিলিং স্টেশন, মদনপুর এলাকায় আগমন ফিলিং স্টেশন, গাজীপুরে হংকং ফিলিং স্টেশন, রুপসীতে সিকদার ফিলিং স্টেশন। ময়মনসিংহে রয়েছে মেমো ফিলিং স্টেশন। পাম্পগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি প্রকাশ্যে জ্বালানি তেল হাটে বাজারে সরকারি বেধে দেওয়া দাম থেকেও বেশি দামে বিক্রি করছেন। তিনি আরো জানান, জ্বালানি তেলের সংকট চলছে, যারা তেল হাটে-ঘাটে অধিক মুনাফার জন্য বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে সরকারের দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। তা না হলে জ্বালানি তেলের অসাধু মজুদ চক্রের দৌরাত্ম্য  আরো বাড়বে। তবে পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, হাজার হাজার ফিলিং স্টেশন মালিকের মধ্যে হাতে গোনা দু-একটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। সব পেশাতেই ভালো খারাপ আছে। ঢালাওভাবে পেট্রোল পাম্পগুলোকে দোষ না দিয়ে যারা দুর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে মানুষকেও উপলব্ধি করতে হবে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে, যে ব্যক্তি কালোবাজারে মজুত বা লেনদেনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান আছে। স্বাধীনতার পর পণ্য মজুত করে সংকট তৈরির ঘটনা ঘটেছিল। তখনি এই আইনটি করা হয়েছিল। এ আইনে চোরাচালান, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত যে কাউকে সরকারের আটক করতে পারার বিধান রয়েছে। তবে ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলছেন বাংলাদেশে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখলেই মজুতদারি শুরু হয় এবং এখনো সেটাই হচ্ছে। তেলের সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকার বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে তেল আনছে। প্যানিক বায়িং হচ্ছে। কারণ সরকার যা বলছে মানুষ হয়তো তাতে আস্থা পাচ্ছে না। ফলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। মজুত ও সরবরাহ নিয়ে প্রতিদিন তথ্য প্রকাশ করলে এমনটি হতো না। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু বা বন্ধ করা- কোনোটার সাথেই বাংলাদেশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, কিন্তু এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে পড়েছে এবং সামনে আরও হবে। কারণ তেল কম সরবরাহ হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে। সেটি হলে জেনারেটর দিয়ে গার্মেন্ট কারখানা চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ডিজেল আসবে কোথা থেকে। অর্থাৎ রফতানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণেই সরকারকে আরও স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তা নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষকেও পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্বশীল হতে হবে।

সম্পর্কিত খবর

;