দ্রুত পদক্ষেপ না হলে

১৪ জানুয়ারী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে দেশব্যাপী কর্মবিরতি

প্রকাশ : 18 Dec 2025
১৪ জানুয়ারী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে দেশব্যাপী কর্মবিরতি


স্টাফ রিপোর্টার: আজ (বৃহস্পতিবার) ১৮ ডিসেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রমআইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ। পরিষদের আহবায়ক আক্তারুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন, বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি খলীলুর রহমান, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভুঁইয়া, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত ও ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বেলায়েত হোসেন নয়ন, ঢাকা পোশাক প্রস্তুতকারী শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম মানিক, ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিক্সা চালক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক শেখ হানিফসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রিয় যুগ্ম আহবায়ক তফাজ্জল হোসেন এবং ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক সাইফুল ইসলাম। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা শ্রমভবনের সামনে আবারো সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জহিরুল ইসলাম বাদল, আতিকুল ইসলাম টিটু, মো: অপু, রাজু আহমেদ, তাজুল ইসলাম, রহমত আলী, আল আমিন সর্দার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামি ১৪ জানুয়ারী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে দেশব্যাপী কর্মবিরতি পালন করা হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, চলতি বছরের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখনও পর্যন্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে শ্রম অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ২০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে। সে মোতাবেক সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ ইংরেজি তারিখে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সাথে দেশব্যাপী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরের ইউনিয়নগুলি থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তথাপি সরকার ও মালিক- কোন পক্ষ থেকেই কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শ্রমিকদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করে। এমনাবস্থায় হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে ক্রিয়াশীল সারাদেশের সংগঠনসমূহ নিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সংগ্রাম পরিষদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করে আগামি ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ইংরেজি তারিখে সারাদেশে হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্মবিরতি ঘোষণা করে। ফলে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট অবিলম্বে বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘন্টা শ্রমদিবস কার্যকর এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জেলা-অঞ্চলে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে সংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত কর্মবিরতি পালন করা ছাড়া শ্রমিকদের কাছে আর বিকল্প করণীয় থাকবে না। এমনাবস্থায় অনতিবিলম্বে উক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আজ (১৮ ডিসেম্বর) মহাপরিদর্শক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান প্রদান করা হচ্ছে বলে নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন। সমাবেশ চলাকালীন সময়ে সংগ্রাম পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। মহাপরিদর্শকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন যুগ্ম মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ। স্মারকলিপির প্রেক্ষিতে মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মহাপরিদশক।

সম্পর্কিত খবর

;