স্বাধীনতার পর সবচেয়ে জনকল্যাণমুখী বাজেট পাস হয়েছে : চিফ হুইপ

প্রকাশ : 02 Jul 2026
স্বাধীনতার পর সবচেয়ে জনকল্যাণমুখী বাজেট পাস হয়েছে : চিফ হুইপ


স্টাফ রিপোর্টার: স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসে এত জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর প্রণীত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাীবনবান্ধব এই বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ বলেন, এ বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী একে মানুষের বাজেট, জনবান্ধব বাজেট এবং জনগণের জীবন-জীবিকার বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। একদিনে ডলারের দাম ৭ টাকা বৃদ্ধি, কয়েকটি ব্যাংকের সংকট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা অর্থনীতির দুর্বলতার প্রমাণ। অতীতের অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির প্রভাব এখনও অর্থনীতিতে বিদ্যমান। এ কারণে সরকার অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সরকার প্রদর্শনমূলক নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন পূরণের প্রকল্প গ্রহণ করছে জানিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, জনপ্রিয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা এবং দেশের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, বাজেটে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কোনো মানুষ যেন না খেয়ে না থাকে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হয়। সাধারণ মানুষের ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কর বৃদ্ধি করা হয়নি বলেও জানান তিনি। 

সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চার বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধী দল বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও তাদের প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিরোধীদলীয় নেতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও রাখা হয়নি। বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এটি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ইতিবাচক সহযোগিতার একটি উদাহরণ। এছাড়া বাজেট আলোচনার নির্ধারিত সময় শেষে গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধও বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকেই আসে এবং পরে বিরোধী দল তাদের ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা সম্ভব হবে। কার্যপ্রণারী বিধি অনুযায়ী, সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ হবে। জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে নূরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ডও কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের মাটিও অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক, সেটিও সরকার চায় না। এ সকল বিষয়ে আগামীতে সংসদে আলোচনা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;