মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের শঙ্কায় ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম, ব্রেন্ট ১০৯.৬৪ ডলার

প্রকাশ : 21 Oct 2026
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের শঙ্কায় ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম, ব্রেন্ট ১০৯.৬৪ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকি, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোকে ঘিরে হুমকির কারণে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।


বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এদিন ০০২২ জিএমটিতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ৮৫ সেন্ট বা ০.৭৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ৭৬ সেন্ট বা ০.৭৮ শতাংশ বেড়ে ৯৮.৫৮ ডলারে পৌঁছায়। অন্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং সৌদি অবকাঠামোতে হুমকির কারণে ব্যবসায়ীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। 


সরবরাহ উদ্বেগের পেছনে রয়েছে একাধিক সাম্প্রতিক ঘটনা। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে সমুদ্রে মাইনে আঘাত লাগার পর একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি গত দুই সপ্তাহে হরমুজ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত সাতটি জাহাজে হামলার ঘটনা রিপোর্ট করেছে শিপিং গোয়েন্দা সংস্থা ম্যারিস্ক। খুব বড় আকারের ক্রুড বাহক কাজিমাহ-৩ এ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে আগুন লাগার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবর কাতারের অদূরে একটি ট্যাংকারে হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও সমুদ্র মাইন স্থাপনের দিকে গেছে, ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং সৌদি আরব তেল রপ্তানি লোহিত সাগর রুটে সরিয়ে নিয়েছে, কিন্তু সেখানেও হুতি হামলায় ঝুঁকি বাড়ছে। 


এছাড়া সৌদি আরবের ইয়ানবুতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা সোমবার আরামকোর ইয়ানবু সাইট, শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ১৯ অক্টোবর ঘোষণা করেন যে, গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ছয়টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল আরামকো তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনা। অন্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে দাবির বিষয়ে নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। 


এর আগে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বৈঠকে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই খবরের পর তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। রয়টার্সের আগের দিনের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদের কারণে মঙ্গলবার তেলের দাম কমে যায়, ডব্লিউটিআই ১.৮ শতাংশ কমে ১০১.৭৯ ডলারে এবং ব্রেন্ট ১০৮.৭৯ ডলারে নেমে আসে। তবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। 


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের ঘাটতিও জ্বালানির বাজারে চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ট্যাংকার হামলার প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে এবং ডিজেল রিলিজের আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়লে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;