দুই মাস বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনতে হবে বাংলাদেশকে!

প্রকাশ : 09 Apr 2026
দুই মাস বাড়তি দামে জ্বালানি তেল কিনতে হবে বাংলাদেশকে!

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোও সাময়িকভাবে স্বস্তি পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে এখনো সময় লাগবে। কারণ সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম যে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তার প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে বাংলাদেশকে আরও অন্তত এক থেকে দুই মাস তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হতে পারে।


জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ তাৎক্ষণিক বাজারদরের ওপর নির্ভর করে না। বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ের গড় আন্তর্জাতিক দামের ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমতে শুরু করলেও সেই প্রভাব দেশে আসতে কিছুটা দেরি হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মে মাসে আমদানি করা এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের গড় দামের ভিত্তিতে। একইভাবে জুন মাসের আমদানিতেও আগের সময়ের তুলনামূলক বেশি দামের প্রভাব পড়বে।


এ অবস্থায় সরকারকে জ্বালানি ব্যয় নিয়ে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। যদিও যুদ্ধবিরতির কারণে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তবুও আবার সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জ্বালানি দামে আরও স্বস্তি আসতে পারে। তবে এর জন্য ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।

সম্পর্কিত খবর

;