যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের চুক্তি হয়েছে: গালিবাফ

প্রকাশ : 23 Jun 2026
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের চুক্তি হয়েছে:  গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান দরকষাকারী মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি জানান, আগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকে থাকা দুই দফায় ৬ বিলিয়ন করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের বিষয়টি সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত হয়েছে। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। গালিবাফ আরও বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও সংশ্লিষ্ট উপজাত রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন খাতেও ছাড় দেওয়া হবে।


তবে ওয়াশিংটন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জব্দকৃত সম্পদের বিষয়টি স্বীকার করলেও ১২ বিলিয়ন ডলারের অঙ্কটি নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি জটিল এবং এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। অন্যদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন, সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রয়োজনীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অর্থ কেবল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তেহরানের প্রবেশাধিকার আরও বাড়বে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদে ইরানের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই অর্থ ইরানের পছন্দের দেশের ব্যাংকে স্থানান্তর ও ব্যয় করা যাবে কোনো বাধা ছাড়াই। তবে হোয়াইট হাউস এর আগে একই ধরনের খবরকে ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ বিনিময় হবে না।”


এদিকে কাতার দাবি করেছে, ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে—এমন খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, এই ধরনের গুজব ছড়িয়ে আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হচ্ছে এবং তা স্বচ্ছ।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদের পরিমাণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তেহরান বলছে, বিদেশে তাদের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আটকে আছে, যেখানে পশ্চিমা হিসাব আরও বেশি। আপাতত আলোচনা হচ্ছে ২৪ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক ধাপ নিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, আসল বিরোধ অর্থের পরিমাণ নিয়ে নয়, বরং এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে তার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে। ওয়াশিংটন অর্থ ছাড়ের সঙ্গে ধাপে ধাপে শর্ত জুড়ে দিতে চায়, যাতে তেহরান প্রতিশ্রুতি না রাখলে দ্রুত সুবিধা প্রত্যাহার করা যায়।


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘাতে হওয়া ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই দুটি বিষয়কে আলোচনার অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চুক্তির আওতায় ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ‘পূর্ণ ব্যবহারের জন্য’ উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও অর্থ ছাড় হবে ইরানের উৎপাদনশীল আলোচনার ওপর নির্ভর করে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, “আমরা তাদের টাকা নিয়েছি, এটা আমাদের টাকা নয়, এটা তাদের টাকা, এবং আমরা তা জব্দ করেছি। একটা সময়ে আমাদের তা ফেরত দিতেই হবে।” 

সম্পর্কিত খবর

;