উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অপহরণ ও হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা

ছয় মাসে নিখোঁজ ৩ হাজার ৪০০ শিশু

প্রকাশ : 04 Aug 2026
ছয় মাসে নিখোঁজ ৩ হাজার ৪০০ শিশু

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ৩ হাজার ৪০০ শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা জাতীয় প্ল্যাটফর্ম মুন এলার্ট (MUN Alert)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া শিশুদের কেউ অপহরণের শিকার হয়েছে, কেউ বাড়ি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি, আবার কেউ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হারিয়ে গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


মুন এলার্ট জানায়, দেশে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে তারা একটি সমন্বিত ডিজিটাল সতর্কতা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ শিশুর তথ্য জমা দিলে তা যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় পর্যায়ে প্রচার করা হয়। পাশাপাশি জরুরি হেল্পলাইন ১৩২১৯ এবং ৯৯৯–এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুদের উদ্ধারে কাজ করা হয়।


সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিখোঁজের ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া, অপহরণ, মানবপাচারের ঝুঁকি, মানসিক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পথ হারিয়ে ফেলা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব—এসব কারণে শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা জরুরি, কারণ প্রথম কয়েক ঘণ্টাই একটি শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


মুন এলার্টের তথ্যমতে, প্ল্যাটফর্মটিতে নিয়মিত নতুন নতুন নিখোঁজ শিশুর তথ্য যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে বহু সক্রিয় নিখোঁজ শিশুর কেস অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা কেস আইডি, ছবি, সর্বশেষ অবস্থান এবং যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষও তথ্য দিয়ে শিশু উদ্ধারে সহায়তা করতে পারেন।


সম্প্রতি মুন এলার্টের উদ্যোগে একটি নিখোঁজ শিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সতর্কবার্তার মাধ্যমে উদ্ধার করার ঘটনাও আলোচনায় আসে। সংস্থাটি জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কতা ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।


শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু নিখোঁজ হওয়ার পর অনুসন্ধান নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হলে নিখোঁজের সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।

সম্পর্কিত খবর

;