আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে ভয়াবহ বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ জন সেনাসদস্য ও ২ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ২২ হামলাকারী নিহত এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এ ঘটনায় মোট ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর ৬টার দিকে দুটি সাদা গাড়িতে করে আসা সশস্ত্র জঙ্গিরা বিমানবন্দর ও সংলগ্ন সামরিক বিমানঘাঁটিতে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি চলে। হামলাকারীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে।
নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি বাহিনী দ্রুত হামলা প্রতিহত করে। ঘটনাস্থল থেকে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, ওয়াকিটকি এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই বিমানবন্দরের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা হয়। সৈন্যরা যাত্রী ও গাড়িতে তল্লাশি চালায়। দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নাইজার বিমান বাহিনীর ঘাঁটি এবং নাইজার-বুরকিনা ফাসো-মালির যৌথ সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত।
এটি চলতি বছরে বিমানবন্দরটিতে দ্বিতীয় বড় হামলা। এর আগে গত জানুয়ারিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা এখানে হামলা চালিয়ে ড্রোন অবকাঠামো ও বিমান কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ‘সরাসরি আঘাত’ হানার দাবি করেছিল। বৃহস্পতিবারের হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে নাইজার সরকার জানিয়েছে, আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামাআত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসো গত এক দশক ধরে আল-কায়েদা ও আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা মোকাবিলা করছে। এতে তিন দেশে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর নাইজারে জঙ্গি হামলা আরও বেড়েছে।
হামলার পর নাইজারের সামরিক সরকার ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্টকে অভিযুক্ত করে বলেছে, তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিচ্ছে। তবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফ্রান্স ও দেশগুলো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আফ্রিকান ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর নাইজারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাহেল অঞ্চলের জোট ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’-এর সদর দপ্তর হিসেবে নিয়ামে বিমানবন্দর জঙ্গিদের কাছে প্রতীকী লক্ষ্যবস্তু। জানুয়ারির পর আবারও হামলা হওয়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টক রিসোর্টে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পরর ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির (Islamabad Memorandum of Understanding) অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূল থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় ...
ডেস্ক রিপোর্ট:: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ফিলিস্তিনের ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন হামাসের তৎপরতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই দুই দেশে হামাসের ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক বা মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং সই হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উভয় দেশের সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।হোয়াইট হাউসের এক ...
সব মন্তব্য
No Comments