অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে মাদকের বিস্তার রোধে আবারও জোরালো অবস্থান নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক সাঁড়াশি অভিযানে ১০ হাজার ১০০ পিস ইয়াবাসহ পাঁচজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদপুর সদর কোতয়ালী থানাধীন রঘুনন্দপুর হাউজিং এস্টেট এলাকার উষা ভবন ও আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ভাঙ্গা জোনের অফিসার ইনচার্জ পি.এম. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এ অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে ভবনের সামনে ও ভেতর থেকে তিনজনকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আশিকুর রহমান রাহাত (২৫), সুমন মৃধা (৩২), মিরাজুল ইসলাম (২৯), রুমান মোল্লা (২৯) ও মোহাম্মদ সোলায়মান মৃধা (২৬)। তারা সবাই ফরিদপুর সদর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, আশিকুর রহমান রাহাতের কাছ থেকে ২০টি প্যাকেটে মোট ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সুমন মৃধার কাছ থেকে ১৪টি প্যাকেটে ২ হাজার ৮০০ পিস এবং খোলা অবস্থায় আরও ১০০ পিসসহ মোট ২ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। মিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ১৬টি প্যাকেটে ৩ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ১০ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি এদের সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত আছে।
জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ অভিযান ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রঘুনন্দপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রশাসন এভাবে কঠোর অভিযান চালালে অন্তত এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।” আরেকজন অভিভাবক বলেন, “স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প নেই।”
সচেতন মহল মনে করছে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই নয়, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে মাদকমুক্ত ফরিদপুর গড়ে তুলতে। জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও, এ লড়াইয়ে টেকসই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা।
রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল দশটার দিকে। নিহত মোটরসাইকেল ...
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রব (মাষ্টার)-এর সমর্থনে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ দুপুরে ৫নং আমতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম ...
বিজয় রায়, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সর্বত্র আমরা এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে ব্রিফিং প্য ...
উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও উজিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন উজিরপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ...
সব মন্তব্য
No Comments