প্রাথমিক মেয়াদ ১০ দিন

৬ শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন

প্রকাশ : 04 Jun 2026
৬ শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবানন ও ইসরায়েল ১০ দিনের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি ১৬ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প বলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং দুদেশের নেতাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যুদ্ধবিরতির ছয়টি শর্ত প্রকাশ করেছে, যা উভয় দেশ মেনে নিয়েছে বলে জানানো হয়। প্রথম শর্ত অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল বিকেল ৫টা থেকে লেবানন ও ইসরায়েল সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখবে। প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি ১০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যা স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য নেওয়া হয়েছে।


দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে এবং লেবানন তার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা দেখাতে পারলে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে। তৃতীয় শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য বা চলমান হামলার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে এসময় লেবাননের ভেতরে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালাবে না।


চতুর্থ শর্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় লেবানন সরকার হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা বৈরী কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পঞ্চম শর্তে বলা হয়েছে, লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় প্রতিরক্ষার একমাত্র দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে স্বীকৃত হবে; অন্য কোনো দেশ বা গোষ্ঠী এ দাবিদার হতে পারবে না।


সবশেষ শর্ত হলো, আন্তর্জাতিক স্থল সীমা নির্ধারণসহ অন্যান্য ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাবে দুই দেশ, যাতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।


নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যদি কোনো নতুন হুমকি তৈরি করে, তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ‘পূর্ণ’ স্বাধীনতা পাবে ইসরায়েল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহ যদি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।


অন্যদিকে লেবাননের উপ-সংসদীয় স্পিকার এলিয়াস বউ সাআব জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতিতে এখন আর গুরুতর কোনো বাধা নেই। একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর খালি করা এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে।


উল্লেখ্য, এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যেখানে ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহকে লিটানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।


সম্পর্কিত খবর

;