তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ দ্রুতই জারি করা হবে ॥ অধ্যাপক ড. সায়েদুর রহমান

প্রকাশ : 24 Feb 2025
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ দ্রুতই জারি করা হবে ॥ অধ্যাপক ড. সায়েদুর রহমান


স্টাফ রিপোর্টার: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ দ্রুতই জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকার মনে করে, তরুণরা সুস্থ্য থাকলে দেশও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। দ্রুতই এই সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি করা সম্ভব হবে।

আজ সোমবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নারী মৈত্রীর আয়োজিত ‘তরুণদের সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ : গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। নারীমৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি, বাংলাদেশ ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, তামাক বিরোধী তরুণ ফোরামের আহ্বায়ক আশরাফিয়া জান্নাত প্রমূখ। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী একটি গোষ্ঠী রয়েছে, কারণ তামাক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছর ২৪ থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স দেয় এবং তারা তাদের মুনাফা রক্ষা করতে চাইবে। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন ধূমপায়ী তৈরি না হওয়া। এজন্য আমরা দেশী ও বিদেশী গবেষণার ভিত্তিতে পাবলিক প্লেসে তামাক নিষিদ্ধ করার গুরুত্ব প্রচার করছি।

অতিরিক্ত সচিব মোমেনা মনি বলেন, স্বাস্থ্য মত্রণালয়ের এক্সিকিউটিভ কমিটির রিভিউ মিটিং-এ সভা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো উপস্থাপণ করবেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনের সংশোধনীগুলো পাস করা জরুরি মনে তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাসের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সংলিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এরআগে সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী মৈত্রীর প্রকল্প সমন্বয়ক নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, তামাকের কারণে দেশে প্রতিদিন ৪৪২ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) আলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীগুলো দ্রুত পাশ করা জরুরি। এরমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য সংশোধনী হলো- পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, তামাক পণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন ও খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ বাড়ানো এবং ই-সিগারেটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ-তরুণীদের রক্ষা করতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। 

সভায় বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো মিথ্যা প্রচার করছে যে, প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাস হলে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব হারাবে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও ২০১৩ সালে সংশোধনের পর গত ১৮ বছরে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে ১২ গুণ। তারা আরো বলেন, সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা আমাদের অধিকার। তাই সংশোধনী দ্রুত বাস্তবায়ন করে আমাদের একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর সমাজ উপহার দিন।

সভায় তামাক বিরোধী মায়েদের ফোরাম, শিক্ষক ফোরাম, গার্লস গাইড রেঞ্জার এবং রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাশের জোরালো দাবি জানান। 

সম্পর্কিত খবর

;