ডেস্ক রিপোর্ট: সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী আজ এক যৌথ বিবৃতিতে জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে নারী ফুটবল ম্যাচ আয়োজন স্থলে তৌহিদী জনতা নামে কিছু মুসল্লি ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও অবিলম্বে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করার চেষ্টা কোন বিচ্ছিন্ন বিষয় না। ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নারীকে ঘরে বন্দী করে রাখার জন্য নানারকম পায়তারা চালিয়ে এসেছে সবসময়ই। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তথাকথিত অন্তর্ভূক্তিমূলক রাজনীতির ধুয়া তুলে এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আরো সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। তার ফলশ্রুতিতে তৌহিদী জনতার নামে মাজার ভাঙচুর, মেয়েদের পড়াশোনার প্রতি আঙুল তোলা, অভিনেত্রীদের শোরুম উদ্বোধন করতে বাধা দেয়া, পাঠ্যপুস্তকের বিষয় পরিবর্তনসহ নানারকম ঘটনা ঘটে চলেছে। সর্বশেষ নারী ফুটবল ম্যাচ পন্ড করার চেষ্টা! এদেশের মানুষ এই সাম্প্রদায়িক চিন্তার বিপরীতে ধর্ম নিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নির্মাণের প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। জনগণ এদের পরাজিত করলেও গত ৫৩ বছরে শাসকগোষ্ঠী এই চিন্তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। সুবিধাবাদীগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তার ফলে এই ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বারবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পায়।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এই যে তৌহিদী জনতা যাদের দেশের গণআন্দোলনে অংশ নিতে দেখা যায় না, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ জনগণের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় না, লুটপাট দুর্নীতির প্রতিবাদে একটা শব্দ উচ্চারণ করতে শোনা যায় না, কিন্তু নারীদের পড়াশোনা, বাইরে কাজ করাসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে তারা ভীষণভাবে তৎপর। কারণ নারী তাদের কাছে শুধুই ভোগের সামগ্রী। এর বাইরে নারীর মানুষ হিসেবে অধিকার ও মর্যাদাকে তারা স্বীকার করতে চায় না। এরকম কূপমন্ডুক পশ্চাদপদ চিন্তা দেশের জনগণ কখনোই প্রশ্রয় দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না। কারণ নারী ফুটবল টিম যখন চ্যাপম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসে জনগণ তাদের ভালোবাসায় সিক্ত করে, তাদের সাথে হওয়া বেতন বৈষম্য নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়।'
নেতৃবৃন্দ বলেন, 'নারী ও পুরুষ মিলেই সমাজ সভ্যতা। নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃত বেগম রোকেয়া নারী ও পুরুষকে সমাজের দুইটি চাকার সাথে তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন নারীকে পিছিয়ে রাখলে সমাজের চাকা ঘুরবে না, সমাজ এগিয়ে যাবে না। আমরাও মনে করি নারীকে পিছিয়ে রাখার সব রকম ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। এই সংগ্রাম কেবল নারীদের নয়, যে পুরুষগণ সমাজের অগ্রগতি চান তাদেরও। দেশে সর্বোাচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গার্মেন্টস খাত নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। কৃষি, চা, নির্মাণসহ এমন কোন খাত নেই যেখানে নারীরা ভূমিকা রাখছে না। বর্তমান বাংলাদেশে নারীরা যতখানি এগিয়ে এসেছেন সেটা সকল বাধা অতিক্রম করার সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও লড়াই অব্যাহত থাকবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের দাবি ছিল, বৈষম্য দূর করতে হবে। অথচ খুবই দুঃখের সাথে লক্ষ্যণীয় যে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে সরকার নতজানু ভূমিকা গ্রহণ করছে। গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্যণীয়। যেখানে নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করে একটি সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠা কাম্য সেখানে নারীর অবাধ বিকাশের পথ রোধ করার চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে এই ঘটনাগুলোর সাথে যুক্তদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, নয়তো এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে।’
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও সকল প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডেস্ক রিপোর্ট: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, নতুন বছরের এই শ ...
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের দৈনিক ভোরের ডাকের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এতে সরকার-টু-সরকার এবং দল-টু- ...
স্টাফ রিপোর্টার: আজ রাজধানীর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এবি মিলনায়তনে জাতীয় নির্বাহী কমিটির (এনইসি) বিশেষ সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণভোটের রায়কে বাতিল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ক ...
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না। সংসদে কারো জমিদারি মানবো না, কারো কাছে সংসদ বন্ধকও দ ...
সব মন্তব্য
No Comments