‘আত্মরক্ষার’ দাবি সেন্টকমের

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা

প্রকাশ : 03 Jun 2026
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার মূল কেন্দ্র ছিল কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপের আশপাশের এলাকা। 


সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেই মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধ জারি রেখেছে। ওয়াশিংটন বলছে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে হুমকি তৈরি করছিল এমন চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ও তারা ভূপাতিত করেছে। 


এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বন্দর আব্বাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি যুদ্ধবিমান ও আরেকটি ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তেহরান এই হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘শত্রুতামূলক সব কর্মকাণ্ডেরই জবাব দেওয়া হবে’। 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মধ্যেই গত সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে পরপর দুই দফা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তিন দিনের মধ্যে এটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় হামলা। এই হামলা চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। 


হামলার সময় কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা করতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল অবস্থান করছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শিগগিরই কোনো চুক্তি হচ্ছে না। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের মোট তেল-গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। গত সপ্তাহান্তেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু এর পরপরই তিনি সুর বদল করেন এবং মধ্যস্থতাকারীদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দেন। 


এই হামলার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। 


সম্পর্কিত খবর

;