১৪ জানুয়ারী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্মবিরতি

প্রকাশ : 22 Nov 2025
১৪ জানুয়ারী হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে কর্মবিরতি

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামি ১৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে শ্রমিক-কর্মচারিদের কর্মবিরতির আহবান জানিয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ। আজ ২২ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় গুলিস্তানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের এক বর্ধিত সভায় এ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ফেডারেশনের সভাপতি জিন্নাত কাজী খালেকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান খানকে আহবায়ক এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেনকে যুগ্ম আহবায়ক করে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

 

বর্ধিত সভায় সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নগুলির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে সরকার ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান। সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহসভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত এবং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় নেতা আক্তারুজ্জামান খান, তফাজ্জল হোসেন, জয়নাল আবেদীন, সাইফুল ইসলাম, আল আমিন, জহিরুল ইসলাম বাদল, রাজু মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন জেলা ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা হোটেল রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাদেক মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সুনামগঞ্জ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বদরুল ইসলাম, বরগুনা ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম ঘরামী, নওগাঁ ইউনিয়নের সভাপতি মোকসেদুল ইসলাম, নেত্রকোণা জেলা ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ঝিনাইদহ কালিগঞ্জ উপজেলা ইউনিয়নের নেতা মানবেন্দ্র দাস মিন্টু, খুলনা ইউনিয়নের যুগ্ম আহবায়ক মো. জসিম, কুমিল্লা লাকসাম ইউনিয়নের নেতা দেলোয়ার হোসেন দুলাল, সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিয়নের নেতা হাসমত মিয়া, মহানগর নেতা কবির হোসেন, সেলিম মিয়া, নাহিদ হোসেন, রাসেল মিয়া, নাজমুল হোসেন, শাহআলম, আব্দুল হান্নান, রুহুল আমিন, কবির হোসেন প্রমুখ।


সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ফলে ৮ বছর পর এ বছরের ৫ মে হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয়, সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ প্রায় ৫ মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখনও পর্যন্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করা না হলে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ২৮৯-ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিককে ১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে।  


নেতৃবৃন্দ বলেন, এমতাবস্থায় গত ২০ অক্টোবর ফেডারেশনের সকল ইউনিট থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং ২৮ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এসব কর্মসূচি পালনের পরও অদ্যাবধি সরকার বা মালিক পক্ষ থেকে গেজেট বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে ঘোষিত গেজট বাস্তবায়ন এবং স্টারগ্রুপের সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অধিকতর কঠোর কর্মসূচি পালনের বিকল্প নেই। কঠোর কর্মসূচির প্রেক্ষিতে ধারাবাহিক মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচির দিকে অগ্রসর হতে হবে। এ লক্ষ্যে সভায় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছে। ।  


সম্পর্কিত খবর

;