আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার বিকেলে ৪.৯ মাত্রার নতুন কম্পন অনুভূত হয় কারাকাস ও মারাকাইয়ে। এর আগে বুধবার রাতে ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দেশটির উত্তরাঞ্চল। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত ৩,৩৬০ জন। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা আছেন ১৭২ জন। জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং মৃতের সংখ্যা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বাড়তে পারে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় প্রদেশ লা গুয়াইরা। সেখানে একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে। চারটি উঁচু ভবন নিয়ে গঠিত একটি আবাসিক কমপ্লেক্স পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চিলি থেকে আসা উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে ধস সম্পূর্ণ। জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন মৃতদেহ উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে”। সরকার লা গুয়াইরাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে এবং শুক্রবার রাত ৮টা থেকে এলাকায় প্রবেশ সীমিত করেছে।
নিখোঁজ ৫০ হাজার, উদ্ধারে হাত দিয়েই খোঁড়াখুঁড়ি
নিখোঁজদের সন্ধানে ‘ডেসাপারেসিডোস টেরেমোটো ভেনিজুয়েলা’ নামের একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। সেখানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক জায়গায় স্বজনরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। মারজোসলি সালাজার নামের এক নারী বলেন, “আমি আমার পাঁচ মাসের ছেলে গায়েলকে খুঁজছি। আমার ১৬ বছরের মেয়ে মারা গেছে। আমাদের এখানে কোনো সরকারি সাহায্য আসেনি”।
উদ্ধারকাজে এরই মধ্যে চিলি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, মেক্সিকো ও স্পেনের দল যোগ দিয়েছে। জাতিসংঘ ২৫টি আন্তর্জাতিক দল ও ১,০০০ কর্মী মোতায়েন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলার সহায়তা, দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে। ভারত ‘অপারেশন আমিস্তাদ’-এর আওতায় ফিল্ড হাসপাতাল ও ৩৫ টনের বেশি ত্রাণ পাঠিয়েছে।
জাতিসংঘের হিসেবে ভূমিকম্পে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস আশঙ্কা করছে মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২৪ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ৩৯ সেকেন্ড পর ৭.৫ মাত্রার মূল কম্পনটি হয়। দুটিরই কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুই প্রদেশের সান ফেলিপে এলাকায়। এটি ১৯০০ সালের সান নারসিসো ভূমিকম্পের পর ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিমন বলিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ পুনর্গঠনে ২০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোহলু জেলায় শুক্রবার সকালে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনএসএমসি) ও পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন ১০৯ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৬টার দিকে বিমানটি চায়না জুন নামে পরিচিত ১,৭০০ ফ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওতে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ হাজারেরও বেশি। দেশটির ন্ ...
সব মন্তব্য
No Comments