বৈরী আবহাওয়া

সদরঘাট থেকে সব লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ, ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশ : 26 May 2026
সদরঘাট থেকে সব লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ, ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে যাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার: বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সব ধরনের লঞ্চ ও নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৬ মে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, কন্ট্রোল রুম থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এক ক্ষুদে বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদী বন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. মোবারক হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও আকস্মিক ঝড়ো হাওয়ার কারণে নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আবহাওয়া অনুকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেওয়া হবে।”


ঈদুল আজহার ছুটির তৃতীয় দিনে হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো হাজারো যাত্রী। দুপুর থেকে সদরঘাট টার্মিনালে ভিড় বাড়তে থাকে। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, হাতিয়া ও ইলিশা রুটের লঞ্চ ধরতে আসা যাত্রীরা টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও মালামাল নিয়ে পন্টুনে বসে আছেন। এমভি ফারহান-৪ লঞ্চের যাত্রী রিয়াজ ফকির বলেন, “গুলিস্তান থেকে সদরঘাট আসতেই রায়সাহেব বাজার এলাকায় ভয়াবহ যানজটে পড়েছি। আধা ঘণ্টার বেশি লেগেছে। এখন এসে শুনি লঞ্চ বন্ধ। কখন ছাড়বে কিছুই বলতে পারছে না।”


লঞ্চ মালিক সমিতি জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডাবল কেবিন ভাড়া ৪ হাজার টাকা ও ডেক ভাড়া ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ছাড়তে পারছে না। পটুয়াখালীর কালাইয়াগামী এমভি ধুলিয়া লঞ্চের কেরানি আবদুল্লাহ আলী বলেন, “আমাদের লঞ্চ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ছাড়ার কথা। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর অনুমতি না পেলে ছাড়তে পারব না। যাত্রীদের বসিয়ে রাখা ছাড়া উপায় নেই।”


সদরঘাট টার্মিনালমুখী সড়কগুলোতেও তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে যাত্রীরা টার্মিনালে আসছেন। রিকশা, সিএনজি ও প্রাইভেটকারের চাপে বাহাদুর শাহ পার্ক, রায়সাহেব বাজার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে। ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আজ বিকেল থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার উন্নতি হলে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে বিআইডব্লিউটিএ।


এদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল সীমিত আকারে চালু রয়েছে। তবে ঝড়ো হাওয়ার কারণে মাঝনদীতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে, যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আবহাওয়া ভালো না হওয়া পর্যন্ত ভারী যানবাহন পারাপার বন্ধ রাখা হবে।


ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে লঞ্চ বন্ধের ঘোষণায় দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকেই বিকল্প পথে বাসে করে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে বাস টার্মিনালগুলোতেও যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রায় নতুন করে ভোগান্তি যোগ হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আজ রাতের মধ্যেই লঞ্চ চলাচল শুরু হতে পারে বলে বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে।


সম্পর্কিত খবর

;