মামলা করতে বাধা না থাকায় ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেড়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : 30 Jun 2026
মামলা করতে বাধা না থাকায় ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেড়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার: বিগত ১০ থেকে ১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধের হার কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, পরিসংখ্যানে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ বর্তমানে থানায় গিয়ে বা অনলাইনে অভিযোগ করতে সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক কোনো বাধা নেই। ফলে মামলা নথিভুক্তের সংখ্যা বেড়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা মঞ্জুরির দাবি উত্থাপন করা হয়। পরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এ বরাদ্দ এক টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করেন।

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২ হাজার ২১৪টি চুরি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি মামলা হয়েছে। দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলেও গণমাধ্যমগুলো তথ্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন এমন, তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুরো বাজেটের অর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিলেও পরিস্থিতির কতটা পরিবর্তন হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করে রুমিন ফারহানা বলেন, সেই দক্ষতা যদি মন্ত্রণালয়ের কাজেও প্রতিফলিত হতো, তাহলে ছাঁটাই প্রস্তাব আনার প্রয়োজন পড়তো না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১০-১৫ বছরের তুলনায় খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতির পরিসংখ্যানে আমরা ঐতিহাসিকভাবে ভালো অবস্থানে আছি। তবে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হলো, আগে সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী থানায় যেতে পারতেন না। এখন থানায় বা অনলাইনে অভিযোগ করা যায়, সেখানে কোনো বাধা নেই। তাই রেকর্ডের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, দেশের যেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটুক, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খুন, ডাকাতিসহ অধিকাংশ সামাজিক অপরাধের সূচক আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মাদক নিয়ন্ত্রণে গ্রাম পুলিশকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরো জোরদার কার হবে। তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীও মন্ত্রণালয়ের বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

আলোচনার একপর্যায়ে আইনজীবীদের ব্যান্ড পরে সংসদে আসা রুমিন ফারহানার পোশাক প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং এখানে বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি প্রযোজ্য নয়। সংসদের বিধিতে নির্দিষ্ট কোনো পোশাকের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংসদ সদস্যদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী শালীন পোশাক পরার স্বাধীনতা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

;