নিখোঁজের দুই দিন পর জঙ্গলে গাছের মগডালে মিলল সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ

প্রকাশ : 09 Oct 2026
নিখোঁজের দুই দিন পর জঙ্গলে গাছের মগডালে মিলল সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে ফজলুল রহিম কাজল (৫৫) নামের এক সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিরামপুর গ্রাম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। তাঁর গলায় রশি লাগানো ছিল। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম জবান আলী। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি নিজ উপজেলায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৭ অক্টোবর সকালে প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কাজল। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্যাংক থেকে তিনি টাকা তুলেছিলেন কি না, তা-ও নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে এক ব্যক্তি গরু চরাতে কংস নদের পাড়ে যান। এ সময় আশপাশে পচা গন্ধ পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় কাজলের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।


নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য গত ৭ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন কাজল। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। তাঁর মরদেহ গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল, ঝুলন্ত অবস্থায় নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’


মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মরদেহের শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। পরনের পোশাকও খুব একটা এলোমেলো ছিল না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সম্পর্কিত খবর

;