আফটারশকের সতর্কতা জারি

ফিলিপিন্সে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রকাশ : 26 Jun 2026
ফিলিপিন্সে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিনদানাওতে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৯ কিলোমিটার। তবে ফিলিপিন্সের ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) এর মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে উল্লেখ করেছে এবং গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে। 


ফিভোলকসের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল দাভাও অক্সিডেন্টালের সারানগানি পৌরসভার বালুত দ্বীপ থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে ও ১২ ডিগ্রি পশ্চিমে। ফিভোলকসের ভূকম্প তীব্রতা স্কেলে সর্বোচ্চ তীব্রতা ৮ রেকর্ড করা হয়েছে মালাপাতান, সারানগানিতে। এছাড়া জেনারেল সান্তোস, গ্লান, কিয়াম্বা ও মালুংগনেও তীব্রতা ৮ অনুভূত হয়েছে। কম্পন ইন্দোনেশিয়ার মিয়াংগাস ও মেলোংগুয়ানে ৬ মাত্রায় এবং মালয়েশিয়ার সাবাহর তাওয়াউ ও সেম্পোর্নাতেও অনুভূত হয়েছে। 


ভূমিকম্পের পরপরই আফটারশক ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিভোলকস। সংস্থাটি জানিয়েছে, আফটারশক অব্যাহত থাকতে পারে। ভূমিকম্পের পর ফিলিপিন্সে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর মেটমালয়েশিয়াও নিশ্চিত করেছে যে মালয়েশিয়ায় সুনামির কোনো হুমকি নেই। 


শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের কারণে দক্ষিণ মিনদানাওয়ের বিভিন্ন এলাকায় ভবনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। জেনারেল সান্তোস সিটি, সারানগানি ও সাউথ কোটাবাটোতে কয়েক ডজন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্লানের টাপন ব্রিজের অ্যাপ্রোচ, নটরডেম অব দাদিয়ানগাস ইউনিভার্সিটির চারতলা স্কুল ভবন, একাধিক শপিং মল ও রেস্তোরাঁ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেনসান বিমানবন্দরের ছাদের অংশ ও কাচের প্যানেল ভেঙে পড়ায় সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। জেনসানে একটি সুপারমার্কেট ধসে পড়ায় অন্তত পাঁচজন আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং উদ্ধার অভিযান চলছে। 


এর আগে ৮ জুন মিনদানাওতে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার আরও বড় একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু এবং ৪৭৮ জন আহত হয়েছিল বলে সিভিল ডিফেন্স অফিস জানায়। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি গত দুই সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো অঞ্চলটিতে আঘাত হানা ৬ মাত্রার বেশি কম্পন। ফিভোলকস একে ‘ভূমিকম্পের ঝাঁক’ বা সোয়ার্ম হিসেবে বর্ণনা করেছে। 


শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য বাড়িঘরের বাইরে অবস্থান করছেন এবং স্কুলগুলো থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;