উজিরপুরে যুবদল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৯

প্রকাশ : 24 Oct 2026
উজিরপুরে যুবদল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৯

রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলায় কাওসার হাওলাদার (৩৭) নামের এক যুবদল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাওসার হাওলাদার, রাশেদ আমিনসহ কয়েকজন যুবদল কর্মী পশ্চিম সাতলা এলাকার একটি ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় মাইক্রোবাস নিয়ে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জীবন রক্ষার্থে কাওসার ও রাশেদ আমিন ব্রিজের নিচে পানিতে লাফিয়ে পড়ে পাশের হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে ঘরের দরজা ভেঙে সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করে কাওসারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় যুবদল কর্মী ও সাবেক প্রবাসী রাশেদ আমিনও গুরুতর আহত হন। ভাঙা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে যুবদল কর্মী কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কাওসার হাওলাদার সাতলার আলামদী গ্রামের মোনাসেফ হাওলাদারের পুত্র। পেশায় তিনি একজন ভাড়ায় চালিত মোটরবাইক চালক ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে সামান্য বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি থেকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক পক্ষে ছিলেন মৃত সান্টু হাওলাদারের ছেলে আশিকুল ও মৃত মোনাফছেরের ছেলে কাওসার হাওলাদার। অন্য পক্ষে ছিলেন ফরিদ মোল্লার ছেলে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লা। পরে স্থানীয়ভাবে বিরোধটি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। এর মধ্যেই ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে একদল বহিরাগত এলাকায় আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।


হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করেছে। বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


উজিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ফয়জুল আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা চলছে।


উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং আটকদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাতলা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;