মাজারে হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়: টিআইবি

প্রকাশ : 17 May 2026
মাজারে হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়: টিআইবি

ডেস্ক রিপোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাজারে হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাহ আলীর মাজারে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি করেছে সংস্থাটি।


আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ রক্তস্নাত জুলাই আন্দোলনের ফলে কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের পরিপন্থী শক্তির উত্থান ও দেশব্যাপী বহুমত, বহুধর্মী, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই।’


তিনি বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়িয়ে আবহমান বাঙালীর উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চার ক্ষেত্র ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিকশিত করার সুদূরপ্রসারী ছকের অংশ এই হামলা। যা মুক্তচিন্তা ও সহিষ্ণু আচরণের ধারক ও বাহক তথা সকল দেশবাসীর জন্য অশনিসংকেত।


ড. জামান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও অভীষ্টের ধারক শক্তি হিসেবে বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার। এ আমলে বহুসংস্কৃতি ও বহুধর্মী বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রত্যাশার পাশাপাশি এদেশের চিরায়ত সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থান পরিপন্থী এ ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা প্রতিরোধের দায়িত্ব সরকারের।’


তিনি শাহ আলীর মাজারের ওপর আক্রমণের সুষ্ঠু ও নির্মোহ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোরভাবে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইতোপূর্বে বাউল, সাধক ও মাজারে হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেন। তার মতে, আগে ন্যায়বিচারের ন্যূনতম দৃষ্টান্ত থাকলে শাহ আলীর মাজারের ঘটনা এড়ানো যেত।


বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ শুধু প্রত্যাখ্যান যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার পাশাপাশি এদেশের চিরায়ত সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থান নিয়ে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানায় টিআইবি। একইসঙ্গে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের কার্যকরভাবে নিবৃত্ত করার কর্মকৌশল অবলম্বনের জোর দাবি জানানো হয়।


টিআইবি বলেছে, বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণ, বিশ্বাস ও চর্চার অনুসারী প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস, ধর্ম ও সংস্কৃতি লালন ও চর্চার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। এর নিশ্চয়তার দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ও সংসদের বাইরে সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের। এক্ষেত্রে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।


সম্পর্কিত খবর

;