আজ পবিত্র আশুরা

প্রকাশ : 26 Jun 2026
আজ পবিত্র আশুরা

স্টাফ রিপোর্টার: আজ শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর জন্য দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে গভীর শোকের। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৭ জুন বুধবার থেকে ১৪৪৮ হিজরির পবিত্র মহররম মাস গণনা শুরু হয়। সে হিসাবে মহররমের ১০ তারিখ তথা আশুরা পড়েছে আজ শুক্রবার। 


আরবি ‘আশারা’ শব্দ থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ দশ। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকেই আশুরা বলা হয়। দিনটি মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকেন। 


আশুরার দিনটি একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনে হযরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইল ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পান। আল্লাহ তায়ালা ফেরাউন ও তার বাহিনীকে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে দেন। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মুসা (আ.) এই দিন রোজা রাখেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ মদিনায় হিজরতের পর ইহুদিদের এই দিনে রোজা রাখতে দেখে কারণ জানতে চান। তারা ফেরাউনের পতনের ঘটনা জানালে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “আমরা মুসার ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার” এবং নিজেও এই দিনে রোজা রাখেন ও সাহাবিদের রাখতে বলেন। 


একই দিনে ঘটে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম, ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবার ও সঙ্গীরা ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদাতবরণ করেন। এই শাহাদাতের ঘটনা মুসলিম ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে আছে। শিয়া মুসলমানদের মধ্যে আশুরা হযরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের শোকের দিন হিসেবে মিছিল, মজলিস ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। 


আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে এসেছে। হযরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।” সহিহ মুসলিমের হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। ইহুদিদের অনুসরণ থেকে আলাদা হতে রাসুলুল্লাহ ﷺ আশুরার সঙ্গে এর আগের দিন ৯ মহররম অথবা পরের দিন ১১ মহররম মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখতে উৎসাহিত করেছেন। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আশুরার দিন ও এর আগে বা পরে একদিন মিলিয়ে দুটি রোজা রাখেন। 


সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে আশুরা উদযাপন রোজা রাখার মাধ্যমে পালিত হয় এবং প্রকাশ্য শোক প্রদর্শনকে নিরুৎসাহিত করা হয়। অন্যদিকে শিয়া সম্প্রদায়ে দিনটি দলবদ্ধ মিছিল, মাজারে তীর্থযাত্রা ও শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। তবে দিনটি উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই ত্যাগ, ধৈর্য, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। 


সম্পর্কিত খবর

;