বিশেষ প্রতিনিধি: তিনি ছিলেন গরুর হাটের ইজারাদার। ৫ আগষ্টের পর চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদোদ দেয়াসহ নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। অথচ টাকার প্রভাবে তিনিই এখন এমপি প্রার্থী। সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিটি হলেন এম.এ হান্নান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসির নগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ৩ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি সারাদেশে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাদের দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করে। টাকার প্রভাবে এই মনোনয়ন দৌড়ে টিকে গেছেন এম. এ হান্নান।
অথচ ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালের পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী এম. এ. হান্নান নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
দলীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি বিএনপির উপজেলা সভাপতির পদকে ব্যবহার করে একাধিক অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ই আগস্টের পর থেকে এম. এ. হান্নান দল থেকে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি চাঁদাবাজ বাহিনী গঠন করেন এবং এলাকায় “চাঁদাভাই” নামে পরিচিতি পান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যক্তিগত লাভের আশায় ফসলি জমি থেকে এক্সক্যাভেটর মেশিনে মাটি কেটে বিক্রি করেন। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে গত ঈদুল আজহায় নিজ নামেই উপজেলা সদর গরুর বাজারের ইজারা নেন। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এছাড়া উপজেলার প্রায় সব ইটভাটা থেকে তিনি মাসিক মাসোহারা নেন এবং নিজের ভবন নির্মাণে বিনামূল্যে ইট ব্যবহার করেন। এসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিভিন্ন সরকারি হাটবাজার, খাসপুকুর ও জলাশয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজের লোকদের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
৫ই আগস্টের পর অপকর্মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন তিনি।
জানাগেছে, এম. এ হান্নান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
গত ৩১ অক্টোবর ঢাকায় ৩১ দফা বাস্তবায়ন সভায় আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সচিব মফিজ আহমদের (ফরিদ) অর্থায়নে এম. এ. হান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের পক্ষে প্রচারণা চালান এম. এ. হান্নান। এমনকি তিনি সংগ্রামের কর্মীদের ফোনে উৎসাহ দিয়ে বলেন, “সংগ্রাম এমপি জিতলে নাসিরনগর কলেজ মোড়ে গরু জবাই করে খাওয়াবো।
তার বিরুদ্ধে নাসিরনগর সদর বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে তার বাহিনী নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কৃষক দলের আহ্বায়ক আমিরুল হোসেন চকদারের প্রায় ৭৯ শতাংশ ভূমি (মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা) জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন এম. এ. হান্নান। এছাড়া, একটি ট্র্যাভেল এজেন্সিতে আমিরুল হোসেনের পাসপোর্টও তিনি আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এম. এ. হান্নানের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তারা মনে করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে এমন বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ ও অনৈতিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া বিএনপির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এর বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশের অভিযান পরিচালিত (সিভিল টিম) বর্তমানে নগরীর অপরাধ দমনে অন্যতম কার্যকর ইউনিট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ...
ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি :পাবনার ফরিদপুর থানার উদ্যোগে ‘ওপেন হাউজ ডে’ পালিত হয়েছে। শুক্রবার, ১৩ জুন বিকেল চারটায় থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন। ...
নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত একযোগে দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার জেলা প্রশাসন কর্তৃক জেলা প্রশাসক ...
পিরোজপুর অফিস: সুন্দরবনের কোলঘেঁষা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা ...
সব মন্তব্য
No Comments