সরকার ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হোটেল শ্রমিক ফেডারেশন

প্রকাশ : 15 Jul 2025
সরকার ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হোটেল শ্রমিক ফেডারেশন

স্টাফ রিপোর্টার: হোটেল সেক্টরে  সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক সমাবেশ। আজ (১৫ জুলাই) মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং মিছিল শেষে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে  জাতীয় নিম্নতম মজুরী ৩০,০০০/ ঘোষনাসহ গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ ফেডারেশনের ৭ দফা দাবীতে দেশব্যাপী আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান খান এবং পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি চৌধুরী আশিকুল আলম, সহ-সম্পাদক প্রকাশদত্ত, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সদস্য রাজু আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর পর গত মে মাসে হোটেল ও রেস্তোরা খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণা করে। ৩০ হাজার মজুরির দাবিতে দেশব্যাপী শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও সরকার এবং মালিকপক্ষ মাত্র ১৩,০৫০/ নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে।  প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী নিম্নতম মজুরির গেজেট ঘোষণার তারিখ থেকেই মজুরি বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন  না হলে আইনে জরিমানাসহ তা বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়নের বিধান রয়েছে। অথচ গেজেট ঘোষণার  ৩ মাস অতিবাহিত হতে চললেও  এখনো অব্দি মালিকদের গেজেট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই। এমনকি নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দপ্তর থেকেও কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে ৩০ হাজার টাকা জাতীয় নিম্নতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।  


সমাবেশে সিলেটে কাজীরবাজার এলাকায় কর্মরত রেস্টুরেন্ট শ্রমিক রুমনকে ছুরিকাঘাত করে নির্মম ভাবে হত্যা করায় বক্তাগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত শ্রমিক হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ তোলেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃক  শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান না করায় শ্রমিকরা যেমন আইনী অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি অনেক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করাটাও অনিশ্চিত হয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসহ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবি করেন। একই সাথে রুমনের খুনিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেন।


সম্পর্কিত খবর

;