বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের নেতা রাতারাতি ভোল পাল্টিয়ে সাংবাদিক

প্রকাশ : 17 Mar 2025
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও পাঠাগারের নেতা রাতারাতি ভোল পাল্টিয়ে সাংবাদিক

সাভার প্রতিনিধি:  সাভারে ছাত্র-জনতা হত্যার বহু মামলার আসামি সাবেক আওয়ামী লীগের ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী (বর্তমানে কারাগারে) ডাঃ এনামুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ও ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের ঢাকা জেলার সভাপতি নজরুল ইসলাম নীরব এখন ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে পরিচয় দেন সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং ছাত্র জনতার পক্ষের লোক হিসেবে। কোটা আন্দোলন এবং ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিশেষ ভূমিকা রাখা একটি রাজনৈতিক দলের আশুলিয়া শাখার নেতা হিসেবে ও নিজেকে পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে ছিলেন ডা. এনামের ঘনিষ্ঠজন ও আওয়ামী লীগের দোসর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, পাঁচ আগস্ট সরকার পতনের পর ৬ আগস্ট তিনি তার সেই সময়কার ব্যবহৃত ফেসবুক প্রোফাইলে ভুল বানানে লেখেন "ছাএ জনতার জয় সমুদ্রের ঢাকা। মোঃ নজরুল ইসলাম। তখন তার গলায় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী একটি পত্রিকার আইডি কার্ড এবং ফিতা ঝুলতে দেখা যায়। সম্প্রতি, সাভার থানা রোডের একটি রেস্টুরেন্টে ওই পত্রিকাটির সম্পাদক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত "সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার" কমিটির ২৫ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। সেখানে তিনি ওই সংস্থার ঢাকা জেলার সভাপতি হিসেবে নিজেকে উপস্থিত করে বক্তব্য প্রদান করেন। এই মর্মে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার অনলাইনে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। মানবাধিকারের কমিটি গঠন করা একটি চমৎকার পদক্ষেপ। কিন্তু আওয়ামী লীগের দোসর ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগারের নেতা হবে ঢাকা জেলার সভাপতি ! যার দল সরাসরি গণহত্যার সাথে জড়িত । তার নেতৃত্বে কিভাবে মানবাধিকার রক্ষা হবে? এমনটি প্রশ্ন জনমনে।সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে এই নজরুল  ইসলাম নিরব মঞ্চের ধারে কাছে অবস্থান করতেন।সে বিষয়টি মানবাধিকার কমিটির অন্যান্যদের খেয়াল করা দরকার ছিল বলে মনে করছেন অনেকে।সর্বোপরি, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কমিটির ব্যাপারে কারো কোনো আপত্তি নেই,থাকবার কথাও নয়। কারণ মানবাধিকার কমিশন গুলো মানুষের উন্নয়নে কাজ করে। কিন্তু আপত্তি হল ৫ আগস্ট পূর্বেকার আওয়ামী লীগের নেতা হঠাৎ ৬ আগস্ট হয়ে গেলেন সাংবাদিক এবং ছাত্র-জনতার পক্ষের লোক বিষয়টি এখানেই আশ্চর্যের। নজরুল ইসলাম নিরবের তখনকার ফেসবুক আইডিতে তিনি নিজেকে পরিচয় দেন স্বনামধন্য ওই জাতীয় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে। একই সাথে দৈনিক "মানবাধিকার প্রতিদিনের" সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী তার ওই ফেসবুক প্রোফাইলে এ সমস্ত বিষয় নিয়ে তিনি পোস্ট দিলে, সে সময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে তার ওই ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিটি ডিজেবল করে দেন। কিন্তু প্রতিবেদকের কাছে সেই সমস্ত তথ্য-প্রমাণের স্ক্রিনশট রয়েছে। তাছাড়া তিনি স্বৈরাচারী সরকারের আমলের প্রশাসনের বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে প্রায়ই ফেসবুকে ছবি আপলোড করতেন। তারও প্রমাণ সংরক্ষিত। ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তার সুবিধামতো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতেন।। যতদূর জানা গেছে, তিনি ফরিদপুর কিংবা গোপালগঞ্জ জেলার লোক। তিনি এখানেই ক্ষান্ত হননি।গত ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিনে ডাকসুর সাবেক ভিপি, কোটা আন্দোলনের অন্যতম নায়ক এবং স্বৈরাচারী সরকার পতনের অন্যতম মহানায়ক নুরুল হক নূর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হলে তিনি তার পিছে পিছে ঘুরতে থাকেন। নুরুল হক নুর নবীনগর স্মৃতিসৌধের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে দলীয় লোকজনসহ নাস্তা করতে গেলে সেখানেও তার উপস্থিতি দেখা যায়। তখন প্রতিবেদক তার সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি নিজেকে আশুলিয়ার গণঅধিকার পরিষদের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। এব্যাপারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের ঢাকা জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম নীরব কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই সংগঠনটি করতাম আরও তিন বছর আগে। এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। আমি এলাকাতে জামাতে ইসলামী করতাম। আওয়ামী লীগরা আমার দোকানপাট ভেঙ্গে দিয়েছিল বলে ঢাকায় চলে এসেছিলাম। তাছাড়া আমি ৫ আগস্ট এর আগে সরকার পতনের আন্দোলন করেছি মিরপুরে। যার ভিডিও আমার কাছে আছে। তখন প্রশ্ন করা হয় আপনি যদি এলাকাতে জামাত করে থাকেন তাহলে সাভারে এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মিশলেন কেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের ঢাকা জেলার সভাপতি হলেন কিভাবে? উত্তরে তিনি বলেন, আমি তখন সবার সাথে আঁতাত করে চলেছি । গরিব দুঃখী মানুষের কে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য  এগুলো করেছি। যেহেতু এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন তাই করতাম। বঙ্গবন্ধু সবার জন্য। এখনো বঙ্গবন্ধু সবার জন্য কিন্তু শেখ হাসিনার জন্য পচে গেছে। আমি এখনো জামাত করি। গণঅধিকারের কমিটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি আশুলিয়ার অনেক এলাকাতে গণঅধিকারের  কমিটি করে দিয়েছি। যেমন ধানসোনা,শিমুলিয়া ইত্যাদি। তবে আমি গণঅধিকার করি না। ভিপি নূরের সাথে আমার অনেক ভালো সম্পর্ক। কিন্তু সূত্র বলছে, তিনি ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের ব্যানারে সাভারের রেডিও কলোনি স্কুল মাঠ, নবীনগরের জয় রেস্তোরাঁ, এমনকি গেন্ডা স্ট্যান্ডের একটি কাঁচামালের আড়তেও অনুষ্ঠান করেছেন। যেখানে সাবেক ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান, সাবেক সাভার পৌর মেয়র হাজী আব্দুল গনি,আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুদ চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন।

এসব বিষয়ে জানার জন্য ঢাকা জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শওকত হোসেনকে তার ব্যবহারিত মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি প্রথমে রিসিভ করেন। নেটওয়ার্কের সমস্যার জন্য মাত্র নয় সেকেন্ডের মাথায় সেটি কেটে যায়।পরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তার ব্যবহৃত ফোনটিতে এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায়। দীর্ঘ সময় চলে গেলেও তিনি ফোন ব্যাক করেননি। ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগারের ঢাকা জেলার সভাপতি, সাবেক ছাত্র জনতা হত্যার আসামি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমানের ঘনিষ্ঠ লোক। তাকে প্রায়ই ডাঃ এনামুর রহমানের তালবাগের বাসার ধারেকাছে ঘুরঘুর করতে দেখা যেত। তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাঃ মোঃ এনামুর রহমানকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত করতেন।যার প্রমাণ সংরক্ষিত।গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগের দোসর এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগারের ঢাকা জেলার সভাপতি হঠাৎ করে ৬ আগস্ট কিভাবে সাংবাদিক বনে গেলেন? এই প্রশ্ন জনমনে।

সম্পর্কিত খবর

;