ফুলতলায় পাঁচ বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর ধর্ষক আটক

প্রকাশ : 02 Jun 2026
ফুলতলায় পাঁচ বছরের শিশুকে  শ্লীলতাহানির চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর ধর্ষক আটক

ফুলতলা প্রতিনিধি: খুলনার ফুলতলা উপজেলায় সাড়ে পাঁচ বছরের এক শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে বাঁশবাগানে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে আলম শেখ (৩৫) নামে এক লম্পটকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।  সোমবার (১ জুন ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফুলতলা থানাধীন তরতিবপুর গ্রামের একটি বাঁশবাগানে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভিকটিম শিশুর মা আফসানা বেগম বাদী হয়ে ফুলতলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ০১, তারিখ- ০১/০৬/২০২৬ ইং)। আটককৃত আসামি আলম শেখ ফুলতলা থানার ধোপাখোলা গ্রামের মৃত মকছেদ শেখের ছেলে। বর্তমানে সে ফুলতলার তাজপুর এলাকায় এম এম কলেজের পাশে জনৈক খালেক মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৯:৩০ ঘটিকার সময় বাদী আফসানা বেগম তরতিবপুর গ্রামস্থ ইকবাল সরদারের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী এক নারী তাকে জানান যে, তার সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে ‘মনি মনি’ বলে ডেকে এক অপরিচিত ব্যক্তি বাগানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মা আফসানা বেগম ও তার স্বামী মোঃ সবুজ সরদার প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে শিশুর খোঁজে বের হন। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তরতিবপুর গ্রামস্থ ‘শেখ ব্রাদার্স রাইস মিল’ এর পেছনে জনৈক দাউদের বাঁশবাগান থেকে শিশুটিকে বের হয়ে আসতে দেখেন তারা। ঠিক ওই মুহূর্তেই তার পেছন পেছন এক ব্যক্তিকেও বাগান থেকে বের হতে দেখা যায়। বাগান থেকে উদ্ধারের পর শিশুর কাছে বাগানে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে, সে উপস্থিত সবাইকে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানায় ওই অপরিচিত লোকটি তাকে ‘মনি মনি’ বলে ডেকে বাগানের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ‘প্রেম প্রেম খেলার’ কথা বলে জোরপূর্বক তার প্যান্ট খুলে ফেলে। একপর্যায়ে আশেপাশের লোকজনের চিলøাচিলিø ও আসার আভাস পেয়ে লম্পট ব্যক্তিটি তাকে ছেড়ে দেয় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। শিশুর মুখে এই লোমহর্ষক বিবরণ শুনে মা-বাবা ও উপস্থিত প্রতিবেশীরা চিৎকার শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা চারদিক থেকে ছুটে এসে লম্পট আলম শেখকে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেয়। পরে ফুলতলা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে হেফাজতে নেয়। এ বিষয়ে ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিকটিমের মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।” এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী লম্পট আলম শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে কোনো অবুঝ শিশু এমন পাশবিকতার শিকার না হয়।


সম্পর্কিত খবর

;