ভেড়ামারায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেজি দরে বই বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশ : 16 Jan 2025
ভেড়ামারায়  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেজি দরে বই বিক্রির অভিযোগ

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় হালিমা বেগম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বিনা মূল্যের বই কেজি দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। 


জানাগেছে, উপজেলার  পৌর শহরে অবস্থিত হালিমা বেগম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ মাধ্যমিক স্তরের বই নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম পুরাতন বই বিক্রি করে দিয়েছেন। 

গত ১৩ জানুয়ারি স্কুল ছুটির পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম সংরক্ষিত কয়েক বছরের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ৪০০ কেজি বই গোপনে বিক্রি করে দেন। আলম নামে স্থানীয় এক বই ক্রেতা ফেরিওয়ালা ১৫ টাকা কেজি দরে বইগুলো কিনে নেন।


অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন বই ক্রেতা ভাঙ্গারি দোকানদার আলম। 

ভাঙ্গারি দোকানদার আলম বলেন, ১৩ জানুয়ারি হালিমা বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষক সিরাজ স্যারের উপস্থিতিতে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রায় ৩৯৮ কেজি বই আমার কাছে বিক্রি করে।


বই বিক্রির অভিযোগের প্রসঙ্গে জানতে হালিমা বেগম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি স্কুলের শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেই বই বিক্রি করে দিয়েছি। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের কাছে আমরা জানাইনি। কোন টেন্ডার এর মাধ্যমেও বিক্রি করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। 


উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, সরকারি বই বিক্রি করা অপরাধ। তারা যদি পুরাতন বই বিক্রি করতে চায় তাহলে সরকারি কিছু নিয়ম-কানুন আছে। সেই নিয়ম মেনে করতে হবে। তবে সরকারি বই বিক্রয়ের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। সরকারি নিয়মের বাইরে যদি হালিমা বেগম একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক পুরাতন সরকারি বই বিক্রয় করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি বই বিক্রি করতে গেলে নিয়ম অনুসারে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। তারা যদি নিয়ম না মেনে সরকারি বই বিক্রি করে থাকে প্রমাণ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম গত ৫ মাস আগে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলে প্রধান শিক্ষককে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। 


সম্পর্কিত খবর

;