সাবেক আইজিপি মামুনের ৫ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশ : 17 Nov 2025
সাবেক আইজিপি মামুনের ৫ বছর কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালত। মামুন এই মামলায় 'রাজসাক্ষী'ছিলেন, যা তার সাজাকে মৃত্যুদণ্ড থেকে দূরে রেখেছে।

বৃহস্পিবার (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই তিন জনের বিরুদ্ধে আজ ( ১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিকুল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। 


২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্ট মাসে শিক্ষার্থীদের চারানো কোটি সংস্কার আন্দোলন দমনে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, নির্যিতন ও গুমের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয় যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং নির্দেশনা দেওয়া হয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহৃিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামালা গ্রহণ করে।

জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনের নৃশংস তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ২০২৪ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৫ সালের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি , সাক্ষ্যগ্রহণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ-

আন্দোলন দমনে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ,

ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ,

কিছু এলাকায় গত্যার পর মৃতদেহ পুড়িয়ে ফলা,

সরকারি বাহিনী ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট টার্গেটে হামলা পরিচালনা,

এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ।

মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামী করা হয়-

শেখ হাসিনা-তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী

আসাদুজ্জামান খান কামাল-তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-সাবেক আইজিপি


আসাদুজ্জামান খান কামাল (অন্য মামলায় উল্লেখিত সাবেক মন্ত্রী)

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (সাবেক আইজিপি-পৃথক অভিযোগে)

তাদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে আজ রায় দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও সহিংসতা ছিল উদ্দেশ্যমূলক, পরিকল্পিত এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের ফল। আদালত আরও উল্লেখ করে যে জুলাই-আগষ্টের ঘটনাগুলো 'যুদ্ধপরাধের সমতুল্য মানবতাবিরোধী অপরাধ'।




সম্পর্কিত খবর

;