দৌলতপুরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ, বন্দী অবস্থায় ২০ পরিবারের মানবেতর জীবন

প্রকাশ : 15 Oct 2026
দৌলতপুরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ, বন্দী অবস্থায় ২০ পরিবারের মানবেতর জীবন

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হোসেনাবাদ স-মিলপাড়ায় দীর্ঘদিনের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সেখানে বসবাসরত প্রায় ২০টি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ওই পরিবারগুলোর সদস্য ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে এ পরিস্থিতি চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।


ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর আগে পদ্মা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ স-মিলপাড়ায় স্থানীয় আরজেত আলী ও তার ভাইদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন অন্তত ২০টি পরিবার। জমি বিক্রির সময় আরজেত আলী তাদের জমির পাশ দিয়ে ৬ ফুট প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। ওই আশ্বাসে পরিবারগুলো দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় হিটু ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।


ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জমি বিক্রেতা আরজেত আলীকে জানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। পরে চলাচলের সুবিধার জন্য জমি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জমির কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।


ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে যাতায়াতের রাস্তা দেখিয়েই আমাদের কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছিল। এতদিন আমরা ওই রাস্তা ব্যবহার করেছি। এখন পাশের জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা চলাচলের জন্য জমি কিনে নিতে চাইলেও তারা কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়।


অপর ভুক্তভোগী জহুরা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা প্রায় এক মাস ধরে বাঁশের রেলিং দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের চলাচলে খুব অসুবিধা হচ্ছে। বন্দী অবস্থায় শিশু, বয়স্ক মানুষ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পড়েছি। স্কুল-কলেজে পড়া ছেলে মেয়েদের যাতায়াতেও চরম সমস্যা হচ্ছে।


অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হিটু বলেন, আমরা জমি বায়না করেছি। বায়নাসূত্রে জমিটি দখলে নিয়েছি। বায়নানামা দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।


এলাকাবাসী জানান, চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় বিরোধ ও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত রাস্তা খুলে দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এমন পরিস্থিতিতে চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছেও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।


দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিয়ে থাকলে তাদের আমার সঙ্গে দেখা করতে বলুন। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করবো।


দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর

;