ডেস্ক রিপোর্ট: পদ্মা সেতুর কারণে নারীরা বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে!
পদ্মা সেতু প্রকল্পের কারণে মানুষের যাতায়াত সহজ হলেও সংলগ্ন এলাকার বসবাসকারী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সুষম পুনর্বাসন হয়নি। এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. খুরশিদ আলম।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লালমাটিয়ায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল রিসার্চ (বিআইএসআর) ট্রাস্টের অফিসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যদি নাগরিক সমাজ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে রাষ্ট্রকে পরামর্শ দিত, তবে এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হত। এখানে রাষ্টের সাধারণ নাগরিক বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে।
এছাড়াও ওই এলাকার নারীরা সামাজিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে ও হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিআইএসআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. খুরশিদ বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় তৎসংশ্লিষ্ট এলাকায় জমির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এর ফলে একটি পরিবারের ছেলে সন্তানেরা অর্থাৎ ভাইয়েরা ব্যাপকভাবে তাদের বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে। যাতে ছেলেরা নিজেরা বেশি সুবিধা পেতে পারে।
গবেষণার কাজে সংস্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি এই বৈষম্যমূলক বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করেন।
ড. খুরশিদ বলেন, বর্তমানে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ শহীদ বলে তাঁদেরই নাম মুখে মুখে, যাদের কিনা পূর্বের সামাজিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। অথচ, যে মুদি দোকানদার, গরীব খেঁটে খাওয়া মানুষরা মারা গেছে তাঁরা গুরুত্বের তালিকায় পিছিয়ে আছে। একটি দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের কর্তব্য এটি যেন বৈষম্যহীনভাবে প্রত্যেকটি শহীদকে দেখা হয় সেই বোধ সাধারণ মানুষের মাঝে জাগ্রত করা। জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার দায়িত্ব নাগরিক সমাজ অর্থাৎ সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের নিতে হবে। এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার দরকার।
এছাড়াও আইনগত বৈষম্য আইন দিয়ে পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু সামাজিক বৈষম্য কিভাবে পরিবর্তন করবেন? এক্ষেত্রে সামাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গবেষণা চালিয়ে পরবর্তীতে ফলাফল অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও অভিমত দেন তিনি।
ঝাড়ুদার, মেথর, শ্রমিক, মালিক, হিন্দু, মুসলিম সহ সব ধর্ম ও শ্রেণী পেশার মানুষের সমন্বয়ে ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ বা একটি অভিন্ন বাংলাদেশের দাবী কেন এখনও ওঠে নি, সে বিষয়ে ড. খুরশিদ বিষ্ময় প্রকাশ করেন। বৈষম্য বিরোধী রাষ্ট্র গড়তে এর বিকল্প নেই বলেও তিনি জানান।
‘নাগরিক সমাজ শক্ত না হলে নেতৃত্ব গড়ে উঠবে না’
এছাড়াও বিআইএসআর আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজ সংস্কার বিষয়ক আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সমাজের কাজ হল সাধারণ নাগরিকের অধিকারের বিষয় নিয়ে সরকারের সাথে মধ্যস্ততা করা। অথচ আমরা পূর্বে দেখেছি নাগরিক সমাজ হয় কোন দলের অথবা কোন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছে। বাংলাদেশে সুগঠিত নাগরিক সমাজ নেই। সুতরাং রাষ্ট্রের সংস্কার শুরু করতে হবে, নাগরিক সমাজের সংস্কার করার মাধ্যমে।
ড. রেজওয়ানা বলেন, নাগরিকসমাজশক্তনাহলেনেতৃত্বগড়েউঠবেনা। তাঁদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে শাসকগোষ্ঠী। আর তাই কয় দিন পরপর জনগণই প্রশ্ন করবে ‘বিকল কে? বিকল্প দেখান।’ সুতরাং গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে নাগরিক সমাজ সংস্কার অত্যাবশ্যকীয়।
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকাসহ সারাদেশে চলমান বলপূর্বক শ্রমজীবী হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভপূর ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগ ও হাজারীবাগ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৭৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ ...
স্টাফ রিপোর্টার: আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সচিবালয়ের প্রকাশিত দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী, বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে ...
স্টাফ রিপোর্টার: স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রদান করা ...
সব মন্তব্য
No Comments