উজিরপুরে খাদ্য কর্মকর্তা শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ।

প্রকাশ : 18 Sep 2025
উজিরপুরে খাদ্য কর্মকর্তা শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ।


উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে খাদ্য বান্ধব  কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে মোটা অংকের ঘুষ আদায় সহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে থ্রি পিচ কাপড় নেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক  আবেদনকারীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ডিলারশিপ না দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জেলা খাদ্য  নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে ঘুষের টাকা ফেরত পেতে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ছাড়া ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহানা পারভীন তার অধিনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত মাশোহারা দিতে বাধ্য করতেন। না দিলে বিভিন্ন প্রকার হয়রানির স্বীকার হতে হতো তাদের। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মচারীরা বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের বিষয়টি টের পেয়ে এ কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে পাঁচ ভুক্তভোগী আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে কর্মকর্তার কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি অসুস্থ ছুটিতে আছি এখন কথা বলতে পারব না। 

বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম তাহসিনুল হক জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শিকারপুর এল এসডির, খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন জানান উপজেলা খাতে নিয়ন্ত্রণ আমার  উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহানা পারভীন, আমিসহ আমার  অন্য স্টাফদের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবী করেন এবং আদায় করে নেন। 

অনেক সময় তার দাবী কৃত টাকা না দিলে তিনি সবার সাথে খারাপ আচরণ করেন।

কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়,  তিনি  তার অধিনস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের  বেতনের ওটিপি কোড নিতে হলে  টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতা পাস হয় না। ইতিপূর্বে তার পূর্বের কর্মস্থল বাকেরগঞ্জ ও  বানাড়িপাড়ায়ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। 


 শিকারপুর এলএসডির খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন জানান,আমি তার অনৈতিক অর্থ আদায়ের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে ভিত্তিহীন গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ করে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করেন। 

মূলত এলএসডির ( খাদ্য গোডাউন এরিয়ার মধ্যে) নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং নির্মাণাধীন ভবনের উপর থেকে ৩৩ হাজার ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নতুন লাইন স্থাপন করতে গাছ কেটে নতুন লাইন নির্মাণ করেন।

 বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক কর্তনকৃত গাছ  এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

 কিন্তু এ কর্মকর্তা শুধুমাত্র ব্যক্তি আক্রোশের জেরে আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। 

এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা  তদন্তে আসলে সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তৃক কাটা গাছের গুড়ি পরিদর্শন করেন এবং কাটাপড়া গাছ স্ব স্থলে রক্ষিত রয়েছে। 

অপরদিকে২৪- ২৫ অর্থবছরের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার  নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। 

ভুক্তভোগী শিকারপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান, পরিচ্ছন্ন কর্মী মোঃ জলিল বেপারী, খাদ্য গুদাম কর্মচারী মীর আব্দুল হাই, মীর আব্দুল হক, নিরাপত্তাকর্মী খাইরুল ইসলাম সহ একাধিক ব্যক্তি লিখিত ও মৌখিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। 

বিএনপি নেতা সরদার সিদ্দিকুর রহমান জানান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আমাকে ডিলার পাইয়ে দিবে বলে আমার কাছ থেকে ৬'হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন এবং আমার  প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনীময়ে ডিলারশিপ তাকে দিয়ে দেন। 

আমি আমার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আমার সাথে অসৎ আচরণ করে এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছেন। 

ব্যবসায়ী মীর আব্দুল হক জানান, আমাকে খাদ্য বন্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে, আমার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু অন্যপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে আমাকে ডিলারশীপ দেননি। আমি আমার টাকা ফেরত চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনার কাছে টাকা নিয়েছে কিন্তু ডিলারশিপ দেব এমন কথা বলিনি। আমি বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা করছি তার সম্মানী নিয়েছি শুধুমাত্র। 

শিকারপুর বাজারের ব‍্যাবসায়ি লিমন হাওলাদারকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দুইটি থ্রি পিস ঘুষ নেওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অপরদিকে এলএসডির পরিচ্ছন্ন কর্মী জলিল বেপারী জানান, প্রতি মাসে তার বেতন থেকে দুই হাজার একশত টাকা  কেটে নেন। 

শিকারপুর রূপালী ব্যাংকের সেকেন্ড ম‍্যানেজার আস্রাফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহানা পারভীন ব্যাংকের কাছে কমিশন দাবী করেন। এ বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা উদ্ধোতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের চুক্তি বাতিল করা হবে বলে জানিয়ে দেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কে। 

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ঘুষের টাকা ফেরত সহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দাবি জানান। 


সম্পর্কিত খবর

;