ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য ও শিডিউল বিপর্যয়

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, বাস-ট্রেন-লঞ্চে ভিড়

প্রকাশ : 02 Jun 2026
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, বাস-ট্রেন-লঞ্চে ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের ছুটি শেষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে আবারও কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে লাখো মানুষ। আজ মঙ্গলবার, ২ জুন সকাল থেকে রাজধানী ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।


রেলস্টেশনের চিত্র:

ঈদের ছুটি শেষে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে অনলাইনে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কাউন্টার থেকে শুধু ব্ল্যাক পেপার টিকিট (বিপিটি) দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শুধু স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো আসন দেওয়া হয়নি। ফলে যাত্রীদের দাঁড়িয়েই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। অনেক ট্রেন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশনে পৌঁছাচ্ছে। 


লঞ্চঘাটে ভোগান্তি:

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুট থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে ভিড়ছে। যাত্রীরা পরিবার-পরিজন ও মালামাল নিয়ে নেমে নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে রওনা হচ্ছেন। তবে টার্মিনাল এলাকায় পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেকেই সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ আবার বিকল্প হিসেবে তাঁতীবাজারসহ আশপাশের এলাকায় হেঁটে যানবাহনের খোঁজ করছেন। 


ভাড়া নিয়ে অনিয়ম:

যাত্রীদের অভিযোগ, বাস, সিএনজি ও রিকশাচালকরা সুযোগ বুঝে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন। চাঁদপুর থেকে আসা খায়রুন্নেছা বলেন, ‘আমি খিলক্ষেত যামু। লঞ্চ থেকে নামার পর এক ঘণ্টা দাঁড়ায়া আছি। কোনো গাড়ি পাই না। যেগুলো আছে সেগুলা ডাবল, তিন গুণ ভাড়া চায়। এত ভাড়া চাইলে পোলাপানগুলা লইয়া বাড়ি যামু কেমনে! এহন খুব কষ্টে পইড়া গেলাম।’ 


ফেরিঘাটে যানবাহনের চাপ:

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন হাজার হাজার যাত্রী। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় কাজ করতে যাওয়া এসব যাত্রী ফেরি ও লঞ্চে করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া এবং পাবনার কাজিরহাট থেকে মানিকগঞ্জের আরিচা নৌপথ পারাপার করছেন। এতে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। 


বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও শিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, মনিটরিংয়ের অভাবে অসাধু পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। কর্মস্থলে ফেরা মানুষের এই দুর্ভোগ আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

;